আগরতলা, ১৩ জুন : ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার ছোট্ট শহর বিলোনিয়ার সন্তান ড. সৌরভ পাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র অর্থায়নে একটি মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা প্রকল্প অর্জন করে রাজ্য তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
বিলোনিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা ড. সৌরভ পাল স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যান। তিনি প্রথমে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (টিআইটি) থেকে ব্যাচেলর অব ইঞ্জিনিয়ারিং (বি.ই.) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি), আগরতলা থেকে মাস্টার অব টেকনোলজি (এম.টেক.) এবং এনআইটি রাউরকেলা থেকে সিগন্যাল ও ইমেজ প্রসেসিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
বর্তমানে ভেলোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ভিআইটি), চেন্নাইয়ের সঙ্গে যুক্ত ড. পাল ইমেজ প্রসেসিং, রিমোট সেন্সিং এবং ডিপ-লার্নিংয়ের মতো অত্যাধুনিক গবেষণা ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছেন।
সম্প্রতি ইসরো তাঁর গবেষণা প্রকল্প “আলোর তীব্রতা, স্কেল, স্থানান্তর এবং ঘূর্ণন-নিরপেক্ষ চিত্র মেলানোর অ্যালগরিদম ডিজাইন ও উন্নয়ন”-কে অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ২৯.৯৩ লক্ষ টাকার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো এমন উন্নত ইমেজ-ম্যাচিং অ্যালগরিদম তৈরি করা, যা আলোর তারতম্য, আকারের পরিবর্তন, স্থানান্তর এবং ঘূর্ণনের মতো বিভিন্ন পরিস্থিতিতেও নির্ভুলভাবে ছবি শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ, রিমোট সেন্সিং, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মহাকাশভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এই গবেষণা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
ড. সৌরভ পাল তাঁর এই সাফল্যের জন্য শিক্ষক, গবেষণা-পরামর্শদাতা, সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বেলোনিয়ার মতো একটি ছোট শহর থেকে উঠে এসে ইসরোর অর্থায়নে গবেষণা প্রকল্প লাভ করা প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় এবং মানসম্পন্ন শিক্ষা থাকলে যে কোনও প্রেক্ষাপট থেকে সফলতা অর্জন সম্ভব।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁর এই অর্জন ত্রিপুরা ও দেশের অন্যান্য ছোট শহরের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।



















