কৈলাসহর, ২৮ জুলাই: কৈলাসহরের ইরানি থানা এলাকায় দশম শ্রেণির ছাত্রী জুবাইদা বেগমের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মৃত ছাত্রীর পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় ইরানি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বরকত আলীর মেয়ে জুবাইদা বেগম। বিকেল পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সেদিন রাতেই ইরানি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়। পরদিন, ১১ জুলাই সকালে স্থানীয় হীরাছড়া চা বাগানের গভীর জঙ্গল থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, শেষকৃত্যের আগে মরদেহ স্নান করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে এবং গোপনাঙ্গে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পাশাপাশি, জুবাইদা কোনো জটিল রোগে ভুগছিল বলে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ফটিকরায় থানা এলাকার এক সন্দেহভাজন নাবালককে আটক করে পরে জুভেনাইল হোমে পাঠায়। তবে এই গ্রেফতার এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জুবাইদার বাড়িতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিশিষ্ট সমাজসেবী আহমদ আলী, সুশান্ত দেবনাথ, সুমল বাওরীসহ এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তারা দাবি করেন, এই ঘটনায় ধৃত নাবালক ছাড়াও আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এদিকে, ঘটনার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করে পরিবার জানিয়েছে, তারা সুবিচারের আশায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবী আহমদ আলী এবং মৃত ছাত্রীর মা।






















