নয়াদিল্লি, ১২ জুন (আইএএনএস): ২০২৬ আইসিসি মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম একাদশে পেস আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে ক্রান্তি গৌড়, রেণুকা সিং ঠাকুর এবং অরুন্ধতী রেড্ডি-কে একসঙ্গে খেলানোর পক্ষে মত দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক অঞ্জুম চোপড়া। তাঁর মতে, ইংল্যান্ড সিরিজে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলেও এই তিন পেসারই ভারতের বোলিং আক্রমণের মেরুদণ্ড হওয়া উচিত।
রবিবার এজবাস্টনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার আগে ভারতের বোলিং বিভাগই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দীপ্তি শর্মা-র সাম্প্রতিক ফর্মহীনতা, অলরাউন্ডার অমনজ্যোত কৌর-এর অনুপস্থিতি এবং ডেথ ওভারে বোলিংয়ের দুর্বলতা ভারতীয় দলকে ভাবাচ্ছে।
আইএএনএস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অঞ্জুম বলেন, রেণুকাকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম তিনটি টি-২০ ম্যাচে কেন খেলানো হয়নি, তা আমরা জানি না। হয়তো অন্যদের সুযোগ দেওয়ার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে আমার মতে, ভারতের প্রথম একাদশে রেণুকা সিং, ক্রান্তি গৌড় এবং অরুন্ধতী রেড্ডির থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, যদি এই তিন পেসারকে খেলানো হয়, তাহলে মাত্র দুইজন স্পিনার নিয়ে নামতে হবে। চারজন স্পিনার দীপ্তি, এন শ্রী চারণী, রাধা যাদব এবং শ্রেয়াঙ্কা পাটিল একসঙ্গে খেলানো সম্ভব নয়। কারণ বর্তমানে ভারতীয় দলে প্রকৃত অলরাউন্ডারের অভাব রয়েছে।
স্পিন বিভাগ নিয়ে অঞ্জুমের বিশেষ আস্থা রয়েছে শ্রেয়াঙ্কা পাটিলের উপর। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপ থেকে ভারত যদি সেমিফাইনালে উঠতে চায়, তাহলে শ্রেয়াঙ্কার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তিনি বলেন, শ্রেয়াঙ্কা এই প্রথম ইংল্যান্ডে খেলছে। নতুন পরিবেশ, নতুন উইকেট ও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। তাই আমার মতে, ওকে প্রতিটি ম্যাচ খেলানো উচিত। যত বেশি ম্যাচ খেলবে, তত দ্রুত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
অঞ্জুমের মতে, ইংল্যান্ড সিরিজ এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলিতে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট মূলত বিভিন্ন বিকল্প যাচাই করার চেষ্টা করেছে। অরুন্ধতীকে নতুন বলে বোলিং করানো, দীপ্তিকে মাঝের ওভারে ব্যবহার করা কিংবা ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন সবই ছিল বিশ্বকাপের আগে সম্ভাব্য সমন্বয় পরীক্ষা করার অংশ।
তিনি বলেন, অরুন্ধতী সাধারণত নতুন বলে বোলিং করেন না। কিন্তু এই সিরিজে তাঁকে সেই ভূমিকায় দেখা গেছে এবং তিনি বেশ ভালোও করেছেন। একইভাবে দীপ্তি বা চারণীকেও ভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, এই তিনটি ম্যাচ ছিল মূলত দলের বিভিন্ন বিকল্পকে যাচাই করার জন্য।
ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্নচিহ্ন থাকলেও অঞ্জুম চোপড়ার মতে, রেণুকা, ক্রান্তি ও অরুন্ধতীর সমন্বয়ই বিশ্বকাপে ভারতের সেরা পেস আক্রমণ গড়ে তুলতে পারে।



















