কলকাতা, ১২ জুন (আইএএনএস) : তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন লোকসভা সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত তিনটি পৃষ্ঠা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। ওই নথিতে নিজেদের দলীয় প্রতিনিধিত্বের “মূল ও সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্লক” হিসেবে দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। তবে প্রকাশ্যে আসা তিনটি পৃষ্ঠা আদৌ সেই চিঠির অংশ কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
প্রকাশিত নথিতে প্রথম স্বাক্ষর রয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এবং দ্বিতীয় স্বাক্ষর শতাব্দী রায়ের। এছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন মথুরাপুরের বাপি হালদার, পূর্ব বর্ধমানের শর্মিলা সরকার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বোলপুরের অসিত মাল, বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রামের কালিপদ সোরেন, ঘাটালের দীপক অধিকারী (দেব), মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান, মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান, বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান, আরামবাগের মিতালি বাগ, কলকাতা দক্ষিণের মালা রায়, হুগলির রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের সায়নী ঘোষ।
নথিতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষের স্বাক্ষর আলাদা স্থানে রয়েছে। দলীয় সূত্রে দাবি, তাঁরা পরবর্তী সময়ে ওই নথিতে স্বাক্ষর করায় তাঁদের নাম পৃথকভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে এই ১৯ জন সাংসদের কেউই এখনও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। একইসঙ্গে লোকসভার স্পিকারের দপ্তর থেকেও এ ধরনের কোনও চিঠি জমা পড়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা ২৭। তবে বসিরহাট কেন্দ্রের সাংসদ শেখ নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর সেই আসনটি শূন্য রয়েছে। ফলে এই স্বাক্ষরিত নথিকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরে কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
যদিও নথির সত্যতা এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি বা দলীয় আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
























