নয়াদিল্লি, ১২ জুন (আইএএনএস): মোটরযান চুরি ও অভ্যাসগত অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে বড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশ। পশ্চিম জেলার বিভিন্ন থানার যৌথ অভিযানে ছয়জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ১৫টি চোরাই দুই-চাকাযান। এছাড়াও একটি অবৈধ অস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তিলক নগর থানা, পশ্চিম জেলার অ্যান্টি অটো থেফট স্কোয়াড (এএটিএস), মায়াপুরি থানা এবং মদিপুর পুলিশ পোস্ট ও পাঞ্জাবি বাগ থানার যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, প্রযুক্তিগত নজরদারি, গোপন সূত্রের তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর ফলে মোট ১১টি মোটরযান চুরির মামলারও সমাধান হয়েছে।
অভিযানের অন্যতম সাফল্য হিসেবে তিলক নগর থানার ‘বদমাশ চরিত্রের’ তালিকাভুক্ত গাড়ি চোর গুরপ্রীত সিং ওরফে লাল্লিকে নাজাফগড় রোডের এম-ব্লক পার্ক এলাকা থেকে ফাঁদ পেতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল ও একটি স্কুটি উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আরও একটি চোরাই মোটরসাইকেলের সন্ধান মেলে।
অন্যদিকে রাজৌরি গার্ডেনের ইএসআই মেট্রো স্টেশন পার্কিং সংলগ্ন এলাকা থেকে এএটিএস দল মোহাম্মদ সাদ্দাম ও সুরজকে একটি চোরাই হোন্ডা অ্যাক্টিভায় চড়ে যাওয়ার সময় আটক করে। তাদের জেরা করে আরও ছয়টি চোরাই দুই-চাকাযান উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা চোরাই গাড়ি একটি ‘মেওয়াতি গ্যাং’-এর কাছে সরবরাহ করত। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে তদন্ত চলছে।
এদিকে মায়াপুরি থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাত্র তিন দিনের মধ্যেই একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলার কিনারা করে। রোহিণী এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার সঙ্গে যুক্ত।
আরেকটি ঘটনায় মদিপুর পুলিশ পোস্টের কর্মীরা ঝিল পার্ক এলাকার কাছে রাজীব গুপ্তাকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে আটক করেন। তার কাছ থেকে একটি চোরাই স্কুটি এবং একটি অবৈধ বাটনচালিত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সমগ্র অভিযানে মোট ১১টি মোটরসাইকেল ও চারটি স্কুটি উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র আইনে একটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, পেশাদার তদন্ত, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সতর্ক পুলিশি নজরদারির ফলেই এই সাফল্য এসেছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাস্তার অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
























