নয়াদিল্লি, ১২ জুন (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশ থেকে কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের রাজ্যসভা মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভে নামে কংগ্রেস। এ সময় দলের মধ্যপ্রদেশ সভাপতি জিতু পাটোয়ারি জানান, আন্দোলনের অনুমতি না দিলে তাঁরা গ্রেপ্তার হতেও প্রস্তুত।
বিক্ষোভস্থলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাটোয়ারি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের কথা না শোনে, রাষ্ট্রপতি যদি না শোনেন এবং আমাদের যদি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতেও বাধা দেওয়া হয়, তাহলে আমরা গ্রেপ্তার হতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ দেখুক, সরকারের আচরণ কতটা অগণতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদ মিছিল করা কি অপরাধ? যদি আমাদের গ্রেপ্তার করতে চায়, তাহলে আমরা জেলে যেতেও প্রস্তুত।
বিক্ষোভের আগে কংগ্রেস বিধায়ক জয়বর্ধন সিং বলেন, আগে ‘ভোট চুরি’র কথা শোনা যেত, এখন নির্বাচন হওয়ার আগেই ‘আসন চুরি’ শুরু হয়েছে।
মীনাক্ষী নটরাজন সম্পর্কে বিজেপি যে তথ্য পেয়েছে বলে দাবি করেছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি আগে ‘ভোট চুরি’ করেছে, এখন ‘আসন চুরি’ করছে। ছোটবেলায় আমাদের শেখানো হয়েছিল, চোরের কথায় কখনও বিশ্বাস করতে নেই।
কংগ্রেস বিধায়ক বিক্রান্ত ভুরিয়া দাবি করেন, মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার দিনটি গণতন্ত্রের জন্য “কালো দিন”।
তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর পর্যন্ত ছিল না। বিজেপি ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণের কথা বলে, অথচ নিজেদের তিন রাজ্যসভা প্রার্থীর মধ্যে একজন মহিলাকেও সুযোগ দেয়নি। কংগ্রেস যখন একজন মহিলাকে সুযোগ দিল, তখন তাকে আটকাতে সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে।
একই সুরে কংগ্রেস নেতা কুনাল চৌধুরী অভিযোগ করেন, দেশে সংবিধান ও গণতন্ত্রকে যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। গান্ধীবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এক মহিলাকে রুখতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মীনাক্ষী নটরাজন একজন গান্ধীবাদী চিন্তাবিদ। তাঁর বিরুদ্ধে কখনও কোনও মামলা বা এফআইআর ছিল না। তবুও একটি ব্যক্তিগত নোটিস ও ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়েছে। এটি গণতন্ত্র হত্যার সামিল।



















