নয়াদিল্লি, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): প্রশ্নফাঁস রোধে আনা ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ নিয়ে সংসদে বিশদ আলোচনা করার জন্য বিরোধীদের কাছে আবেদন জানালেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করাই এই বিলের মূল লক্ষ্য।
সোমবার লোকসভায় বিরোধীদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মধ্যেই বিলটি পেশ করা হয়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রিজিজু অভিযোগ করেন, ছাত্রদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি।
তিনি বলেন, “আজ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল লোকসভায় পেশ হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস ও কিছু বিরোধী দল স্লোগান, প্ল্যাকার্ড এবং হট্টগোলের মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করে এই বিল নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে।”
রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই পরীক্ষা ব্যবস্থায় সার্বিক সংস্কারের সুপারিশ এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে এই “ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী” বিল আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল নিয়েও যদি সংসদে আলোচনা না হয়, তাহলে দেশের ছাত্রছাত্রীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। কংগ্রেসের উচিত ছাত্রদের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো।”
সংসদই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার সর্বোচ্চ মঞ্চ উল্লেখ করে রিজিজু বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো বিষয় নিয়ে যদি সংসদে আলোচনা না হয়, তাহলে কোথায় হবে? গণতন্ত্র ও সংসদীয় ব্যবস্থার স্বার্থেও এ ধরনের আচরণ সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব রাজনৈতিক দলকে মতভেদ ভুলে বিলটি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক বিল। সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করবেন না। সকল দল নিজেদের মতামত জানিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস করুক।”
ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহির দাবির প্রসঙ্গে রিজিজু বলেন, মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি সরানো উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, “এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দেশের ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণ। পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে যে সংস্কার আনা হয়েছে, সংসদে সেটি নিয়েই গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “দয়া করে বিষয়ান্তরে যাবেন না। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ও স্বার্থই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এই সময় অন্য কোনও বিষয় তুলে এনে মূল ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরানো ঠিক হবে না। আমাদের লক্ষ্য ছাত্রদের স্বার্থে এই বিলটি পাস করানো।”


















