ঢাকা, ১২ জুন (আইএএনএস) : বাংলাদেশের যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলায় এক যুবলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। দলটি বলেছে, এই ঘটনা দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দায়মুক্তি এবং মৌলিক মানবাধিকারের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবলীগের স্থানীয় নেতা জুয়েল আহমেদ রানা (৪০) বৃহস্পতিবার সকালে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হামলার সঙ্গে বিএনপি-র স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী জড়িত ছিলেন।
এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ জানায়, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বেঁচে থাকার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার, যা বাংলাদেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন দ্বারা সুরক্ষিত। দলটির মতে, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বর্ণনায় হামলার নৃশংসতার যে চিত্র উঠে এসেছে, তা একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি রাখে।
আওয়ামী লীগ আরও উল্লেখ করে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতার অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং আইনের আওতায় প্রত্যেক অভিযুক্তের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারও সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে।
দলটি দাবি করে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে প্রতিশোধমূলক হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে মানবাধিকারকর্মীরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। এসব ঘটনা আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ জানায়, জুয়েল রানা গুরুতর আহত অবস্থায় সাহায্য পাননি এবং তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর স্ত্রীও হামলার শিকার হন। তবে দলটি স্বীকার করেছে যে এসব অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ জোর দিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
দলটির মতে, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় যে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখা ছাড়া সহিংসতা রোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা সম্ভব নয়। জীবন, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার অধিকার সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।



















