নয়াদিল্লি, ১০ জুন (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশ থেকে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আঘাত বলে দাবি করেছে, অন্যদিকে বিজেপি জানিয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনি ও প্রক্রিয়াগত ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা বি. এম. সন্দীপ বলেন, “এটি শুধু মধ্যপ্রদেশের একটি রাজ্যসভা আসনের বিষয় নয়, বরং গোটা গণতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত একটি প্রশ্ন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এটি কোনও ব্যক্তি বা একটি আসনের সীমাবদ্ধ বিষয় নয়।”
কংগ্রেস সাংসদ জেবি ম্যাথার অভিযোগ করেন, অতীতে বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, “ঝাড়খণ্ডে বিজেপি-সমর্থিত এক প্রার্থীকে ভুল সংশোধনের জন্য পরের দিন সকাল ১১টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাহলে এই ক্ষেত্রে সেই সুযোগ দেওয়া হল না কেন? রাজ্যসভার প্রার্থিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমরা বিশ্বাস করি ন্যায়বিচার মিলবে।”
জেবি ম্যাথার আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে।
তাঁর বক্তব্য, “যে বিষয়গুলি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, সেগুলি ছোটখাটো ত্রুটি মাত্র এবং ব্যাখ্যা দিয়ে তা স্পষ্ট করা যেত। নির্বাচন কমিশন বিজেপির পক্ষেই কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠছে। নাহলে বিজেপির তৃতীয় প্রার্থীর মনোনয়ন আগেভাগে জমা পড়ার তথ্য তাদের কাছে কীভাবে ছিল?”
নারী সংরক্ষণ নিয়ে বিজেপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, “যে বিজেপি নারী সংরক্ষণের কথা বলে, তারাই মধ্যপ্রদেশে এক মহিলা প্রার্থীকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে।”
অন্যদিকে, কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর মুখ্য মুখপাত্র নীরজ কুমার বলেন, “কোনও প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করার ক্ষমতা রিটার্নিং অফিসারের রয়েছে। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে রাজনৈতিক অভিযোগ না তুলে আইনি পথে তা চ্যালেঞ্জ করা উচিত।”
একই সুরে বিজেপির তেলঙ্গানা সভাপতি এন. রামচন্দর রাও বলেন, “মনোনয়নপত্রের হলফনামা অসম্পূর্ণ ছিল এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছিল। একটি ফৌজদারি মামলায় সমন পাওয়ার পরও এবং তার জবাব জমা দেওয়ার পরও সেই তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি, যা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলক।”
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রাক্তন কর্পোরেট আধিকারিক এ. শ্রীলাথা হায়দরাবাদের একটি আদালতে আবেদন করে অভিযোগ করেছেন যে, মীনাক্ষী নটরাজন রাজনৈতিকভাবে কুম্ভম শিবকুমার রেড্ডি-কে মদত দিয়েছেন। রেড্ডির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন শ্রীলতা।
তবে মীনাক্ষী নটরাজন এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং আদালতে জানিয়েছেন, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে।
এদিকে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর বুধবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন মীনাক্ষী নটরাজন।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আজ কংগ্রেস শুধু বিরোধী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সংবিধান প্রণেতাদের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও প্রভাবিত হতে দেখা যাচ্ছে। ফলে মনে হচ্ছে আমাদের তাদের বিরুদ্ধেও লড়তে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ফর্ম কীভাবে পূরণ করতে হয়, তা কেউ জানবে না— এমনটা হতে পারে না। এখানে কোনও আইনি বা কারিগরি ত্রুটি নেই। গতকাল প্রতিটি পদক্ষেপে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা আমরা দেখেছি।”
রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে নটরাজন বলেন, “পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েই বলছি, গতকাল রিটার্নিং অফিসাররা আপসকামী ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁরা বর্তমান সরকারের মুখপাত্র ও সংগঠনের কর্মীর মতো আচরণ করেছেন।”
মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। সে প্রসঙ্গে নটরাজন বলেন, “আমাদের এখনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর কিছুটা আস্থা রয়েছে। আশা করি, এমন কেউ আছেন যিনি সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।”



















