আগরতলা, ৮ জুন: রাজ্যের অর্গানিক কৃষিপণ্যের চাহিদা দিন দিন দেশে-বিদেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষি দপ্তরও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আজ ত্রিপুরা স্টেট অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ সেন্টার, অরুন্ধতীনগর, আগরতলায় এমওভিসিডিএনইআর প্রকল্পের অধীনে অর্গানিক কৃষিপণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও বাজার সম্প্রসারণ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ এই তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, বৈঠকের সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের অর্গানিক কৃষক ও ফার্মার প্রোডিউসার অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে মনোযোগ সহকারে শোনেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা, একইসঙ্গে উৎপাদনও বাড়ানো। তিনি জানান, ২০১৮ সালের আগে আমাদের মাত্র ২টি এফ পি সি ছিল, এখন তা বেড়ে ৫৩টি হয়েছে। কৃষকদের আয় বাড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আমরা অর্গানিক চাষে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং অর্গানিক কৃষির মাধ্যমে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার চেষ্টা করছি। আমরা কালিখাসা, হরিনারায়ণ, সুগন্ধি লেবু, কুইন ও কিউ আনারস, বার্ডস আই চিলি, আদা, তিলসহ বিভিন্ন জৈব ফসলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের অর্গানিক পণ্যের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, কৃষি দপ্তর ইতিমধ্যে প্রায় ১৭ কোটি টাকার অর্গানিক কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশে রপ্তানি করেছে। মন্ত্রী জানান, আজ আমরা দিল্লির উদ্দেশ্যে ১,০০০ কুইন আনারস রওনা করেছি। ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্গানিক পণ্য উৎপাদন করা হবে। ত্রিপুরার পণ্য সম্পূর্ণ অর্গানিক এবং কৃষকরা নিষ্ঠার সঙ্গে চাষ করছেন। আমাদের এফপিও এবং দপ্তর একসঙ্গে কাজ করছে। বার্ডস আই চিলি, আদা, হলুদ ও আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিপণন ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য কেন্দ্র সরকারের এম ডোনার -এর সহায়তায় ২৩৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ জুন দিল্লিতে আন্তর্জাতিক আনারস দিবস পালন করা হবে। সীমিত জমি থাকা সত্ত্বেও আমরা অর্গানিক উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নিরলসভাবে কাজ করছি।
এই অনুষ্ঠানে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, ত্রিপুরা অর্গানিক মিশনের মিশন ডিরেক্টর রাজীব দেববর্মা সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















