কলকাতা, ৪ জুন (আইএএনএস): কলকাতার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার একদিনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার বিধাননগর পুরসভার (বিএমসি) মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীও পদত্যাগ করলেন। তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষ্ণা চক্রবর্তী বিধাননগর পুরসভার কমিশনারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। পাশাপাশি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিবের কাছেও সেই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
কৃষ্ণা চক্রবর্তীর মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় আট মাস বাকি ছিল। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২২ এবং পরে ২০২২ থেকে ৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দুই দফায় বিধাননগরের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর আগে এই পদে ছিলেন সব্যসাচী দত্ত, যিনি বর্তমানে বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান।
পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তী প্রথমে বলেন, “একেবারেই ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করছি।” তবে পরে তিনি জানান, “আমি যেভাবে কাজ করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে কাজ করতে পারছিলাম না। বোর্ড মিটিং হচ্ছিল না, কাউন্সিলররা আসছিলেন না, অফিসাররাও ব্যস্ত থাকতেন। আমি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, মেয়রের পদ ছাড়লেও কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। গত ১৬ বছর ধরে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন। বিধাননগরের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে মায়ের মতো।”
অন্যদিকে, বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী শরদ্বত মুখোপাধ্যায় কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগ নিয়ে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, “ওনার নামে বিধাননগরে ১৮-১৯টি সম্পত্তির খবর পেয়েছি। সেগুলো প্রকাশ্যে আসার আগেই লজ্জায় তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।”
রাজনৈতিক মহলে কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দেখা হয়। যুব কংগ্রেসে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে মমতার পরিচয়। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে কৃষ্ণাও সেই দলে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, বুধবার কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি নিয়েই ফিরহাদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
এর আগে হুগলির চন্দননগর পুরসভার মেয়র রাম চক্রবর্তীর পদত্যাগের পর সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। বিধাননগরের মেয়রের পদত্যাগের ফলে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর শুরু হওয়া পদত্যাগের ধারায় নতুন সংযোজন ঘটল।



















