আগরতলা, ২৯ জুলাই: মা হচ্ছেন একজন শিশুর প্রথম শিক্ষক। গুরু হচ্ছেন শিক্ষা-দিক্ষা এই দুটি বিষয়ে মূল পথ পরিচালক ও পথ প্রদর্শক। সনাতন ধর্ম হল ভারতবর্ষের প্রাচীন ধর্ম। এই ধর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সংস্কার তৈরী হয়। সনাতন ধর্মে মানুষের মধ্যে জাতি-ধর্ম-বর্ণের কোন ভেদাভেদ থাকেনা। বিভিন্ন দেবদেবীর মন্দিরগুলি দর্শনের মধ্য দিয়ে নীতি, আদর্শ ও নৈতিকতার শিক্ষা লাভকরা যায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আজ শ্রী চৈতন্য গৌড়ীয় মঠ আগরতলা জগন্নাথ বাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত গুরু পূর্ণিমা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
আজ এই গুরু পূর্ণিমা অনুষ্ঠানে মঠের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হয়। এছাড়া ১২ জন ধর্মগুরুকেও উত্তরীয় ও পুস্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ গুরু পূর্ণিমার শুভদিনে সকল গুরুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। তিনি বলেন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, অসহায় মানুষকে সহায়তা করা এবং পরোপকারের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়। তবে নিজের মনকেও নির্মল রাখতে হবে। তিনি বলেন, মুঘল সাম্রাজ্যের সময়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন দেবদেবীর মন্দিরগুলিতে আক্রমণ সংঘটিত হলেও, ধর্মের উপর সাময়িক আঘাত এলেও ভারতবর্ষে সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য আজও বিরাজমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর দেশের প্রাচীন মন্দির, মসজিদ, গীর্জা প্রভৃতি সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মন্দির, মসজিদ, গীর্জার অতীত উজ্জ্বল দিনগুলির পুন:জাগরণের ক্ষেত্রে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি পরিহার করে দেশীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি গ্রহণ করলে বর্তমান প্রজন্ম আরও উপকৃত হবে। তিনি বর্তমান প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের মাতাপিতা ও গুরুর আদর্শ ও শিক্ষা মেনে চলার পরামর্শ দেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শ্রী চৈতন্য গৌড়ীয় মঠের বর্তমান আচার্যদের পরম পুজ্যপাদ শ্রীশ্রী মদভক্তি বিচার বিষ্ণু গোস্বামী মহারাজ। উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় শ্রী চৈতন্য গৌড়ীয় মঠের সভাপতি ভক্তি বিচার বিষ্ণু মহারাজ। উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, জগন্নাথ বাড়ির মঠ রক্ষক (আগরতলা) ত্রিদন্ডী স্বামী ভক্তি কমল বৈষ্ণব মহারাজ সহ অন্যান্য মহারাজ ও সমাজসেবীগণ। অনুষ্ঠান শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী শ্রীশ্রী গুরু গৌরাঙ্গ রাধা মদন মোহন বলদেব সুভদ্রা জগন্নাথ জিও-র বিগ্রহে প্রার্থনা করেন ও আরতি করেন এবং মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন।



















