রায়পুর/বিজাপুর, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): ছত্তীসগড়ের বিজাপুরে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় পাঁচ মহিলা-সহ মোট আট মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার বিজাপুর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে তাঁরা সশস্ত্র পথ ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আত্মসমর্পণকারী এই আটজনের মাথার উপর মোট ৪৯ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা এই সদস্যরা ছত্তীসগড় সরকারের নকশাল আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি, বিজাপুর জেলায় চলমান দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন মাওবাদীদের সফল পুনর্বাসনের ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাপ, সংগঠনের দুর্বল হয়ে পড়া, হিংসাত্মক মতাদর্শের প্রতি মোহভঙ্গ এবং আদিবাসী এলাকায় দ্রুত উন্নয়নও তাঁদের আত্মসমর্পণের অন্যতম কারণ বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)-এর সহযোগিতায় এই আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, আস্থা তৈরি এবং সংবেদনশীল ভূমিকা এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ জোনাল কমিটির সদস্য অশ্বিন ওরফে লচ্ছু, সারান্ডা সাব-জোনাল কমিটির সদস্য রঙ্গা ওরফে সোহন এবং ডোবা মাড়ভি ওরফে রহাত— প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা। এছাড়া কোলহান এরিয়া কমিটির সদস্য ফাগনি পোয়াম ওরফে রাজনি, সুরজ মুন্নি চাম্পিয়া ওরফে সুবানি, হিডমে কাদতি ওরফে রীতা, বুধারি কুঞ্জাম ওরফে অনুষা এবং ইআরবি স্কোয়াডের সদস্য সালামি চাম্পিয়া ওরফে জিলানির প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা।
প্রশাসনের দাবি, আত্মসমর্পণকারীদের অধিকাংশই ছত্তীসগড়ের বিজাপুর ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হলেও তাঁরা ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় ছিলেন।
রাজ্যের নকশাল আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির আওতায় তাঁদের আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, আবাসন, শিক্ষা এবং স্বনিযুক্তি বা চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে। সমাজে সম্মানের সঙ্গে পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ধারাবাহিকভাবে তাঁদের পাশে থাকবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



















