আগরতলা, ৩ জুন : সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান রোধে বড় সাফল্য পেল পিআর বাড়ি থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর থেকে পরপর তিনটি পৃথক অভিযানে পুলিশ ৮০ বান্ডিল কাপড় এবং ৭৪ কেজিরও বেশি গাঁজা উদ্ধার করেছে। ঘটনায় দুটি বোলেরো গাড়ি ও একটি ই-রিকশা আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন নাবালক রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় রাঙ্গামুড়া এলাকায়। ভোর সাড়ে তিনটা নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওসি রতন রবি দাস, এসআই প্রসেনজিৎ গোপ এবং এসআই নিরণ দেববর্মার নেতৃত্বে পুলিশ দুটি বোলেরো গাড়ি আটক করে। গাড়ি দুটি তল্লাশি করে ৮০ বান্ডিল কাপড় উদ্ধার করা হয়। তবে চালকরা কাপড় পরিবহনের কোনও বৈধ নথি দেখাতে না পারায় চোরাচালানের সন্দেহে বিএনএসএস-এর ১০৬ ধারায় মালামাল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এরপর দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয় রাধানগর ২ নম্বর টিলা এলাকায়। পিআর বাড়ি থানার পুলিশ এবং জেলা মোবাইল ফরেনসিক দলের যৌথ অভিযানে একটি ই-রিকশা আটক করা হয়। তল্লাশিতে ই-রিকশা থেকে ৪০ কেজি ৪২০ গ্রাম শুকনো গাঁজা উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় ডিমাতলি এলাকার বাসিন্দা ত্রিদীপ সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি এক নাবালককেও আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
একই রাতে তৃতীয় অভিযান চালানো হয় রাজনগর মুসলিমপাড়া এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত বেড়ার নিকটবর্তী স্থানে। সেখানে একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে দুটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা মোট ১৮টি প্যাকেট উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ১৬টি প্যাকেটের ওজন ছিল ২ কেজি করে এবং দুটি প্যাকেটের ওজন ছিল ১ কেজি করে। সব মিলিয়ে ৩৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজার কোনও দাবিদার না থাকায় তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে পিআর বাড়ি থানার ওসি রতন রবি দাস জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক রাতেই তিনটি পৃথক স্থানে অভিযান চালানো হয়। কাপড় পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনও বৈধ নথি পাওয়া যায়নি। গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রুখতে পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
এক রাতে ৭৪ কেজিরও বেশি গাঁজা এবং ৮০ বান্ডিল কাপড় উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ চোরাচালান রোধে পুলিশের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



















