কলকাতা, ২৬ মে (আইএএনএস) : পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নমূলক প্রকল্প, বিশেষত কেন্দ্র-সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জেলা স্তরে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে বিজেপির কোর কমিটি। দলীয় সূত্রে এমনই তথ্য সামনে এসেছে।
বিজেপির রাজ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ মে পশ্চিমবঙ্গের জন্য দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসাল দ্রুত জেলা-স্তরের কোর কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলার কোর কমিটির সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, পর্যবেক্ষক, সাধারণ সম্পাদক, দলের সাংসদ এবং বিধায়কদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
দলীয় নেতাদের বক্তব্য, এই কমিটি গঠনের পিছনে দু’টি মূল উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করা।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে উন্নয়নমূলক প্রকল্প, বিশেষ করে কেন্দ্র-স্পনসরড প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
এক জেলা-স্তরের বিজেপি নেতার কথায়, “কোর কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক জেলার সাংসদ ও বিধায়কদের কাছে পৌঁছে যাবে। একইসঙ্গে জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনিক কার্যকলাপের হালও নেতৃত্বকে জানাতে পারবেন।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ কিছুটা ৩৪ বছরের ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট আমলের প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়। সেই সময় জেলা স্তরের দলীয় নেতৃত্ব সাংসদ ও বিধায়কদের মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রাখত।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, বাম আমলে দল ও প্রশাসনের মধ্যে একটি সীমারেখা বজায় ছিল। প্রয়াত জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-এর সময় দলীয় সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আলাদা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হত।
অন্যদিকে, পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা ব্যানার্জী-র নেতৃত্বাধীন আগের সরকারের সময় সেই ব্যবধান অনেকটাই মুছে গিয়েছিল।
এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কথায়, “সরকারের সিদ্ধান্তে শাসক দলের নীতি প্রতিফলিত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনীতি ও প্রশাসনের মধ্যে একটি সীমারেখা থাকা জরুরি। বিজেপি সম্ভবত সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।”



















