কোচি, ২৫ মে (আইএএনএস): কেরলের মুনাম্বাম জমি বিতর্ককে কেন্দ্র করে আগের বাম সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন ভি. ডি. সাথীসান। তাঁর অভিযোগ, বিদায়ী সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল, যার ফলে বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সতীশন বলেন, আগের সরকার দায়িত্ব ছাড়ার আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে গিয়েছে, যা দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধের আবহ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, সরকার জেনেশুনেই একটি জটিল সমস্যা রেখে গিয়েছিল।
সতীশনের অভিযোগ, বিদায়ী সরকার শেষ পর্যায়ে ওয়াকফ বোর্ডকে উমিদ পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করে, যার ফলে মুনাম্বাম জমি সংক্রান্ত বিরোধ আরও তীব্র হয়। তাঁর মতে, ওই জমি পোর্টালে নথিভুক্ত হওয়ার পর কার্যত ওয়াকফ বোর্ডের মালিকানার দাবিই আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের অবস্থান এমন ছিল যে সেখানে বসবাসকারী মানুষদের দখলদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে বর্তমান সরকার এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সতীশনের স্পষ্ট বক্তব্য, “মুনাম্বামে বসবাসকারী কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। কোনও মানুষকে তার বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে না।”
তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সমাধান যাতে সম্ভব না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে জটিল করা হয়েছিল। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এমনভাবে বিষয়টি সাজানো হয়েছিল যাতে দশ মিনিটে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া না যায়।”
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, উপকূলীয় এলাকায় সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির জন্য সংঘ পরিবার এই ইস্যুকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সিপিআই(এম)-ও রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে কাজে লাগাতে চাইছে বলে অভিযোগ তাঁর।
উল্লেখ্য, মুনাম্বাম জমি বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই কেরলের একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। জমির অধিকার নিয়ে স্থায়ী সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে ওয়াকফ সংক্রান্ত আইনি প্রশ্নও এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
সতীশন বলেন, বর্তমান বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সমস্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনের পথেই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদী।
_______



















