নয়াদিল্লি, ২৫ মে (আইএএনএস): মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই একটি মোবাইল চুরি মামলার কিনারা করে ৭২টি চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার করল দক্ষিণ দিল্লি পুলিশ। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজন অভ্যাসগত অপরাধীকে। পাশাপাশি দিল্লির বিভিন্ন থানায় নথিভুক্ত মোট ৪০টি মোবাইল চুরি মামলারও সমাধান হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেহরৌলি পুলিশ স্টেশন-এর একটি বিশেষ দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত নজরদারি, স্থানীয় সূত্র এবং দ্রুত তৎপরতার মাধ্যমে এই অভিযান চালায়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৫ মে, যখন মেহরৌলি এলাকায় একটি বাসস্ট্যান্ডের কাছে মোবাইল চুরির অভিযোগে পিসিআর কল আসে। পরে অভিযোগকারী ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৩(২) ধারায় একটি ই-এফআইআর দায়ের করেন।
তদন্তে অভিযোগকারী জানান, ঘটনার ঠিক আগে দুই সন্দেহভাজন যুবক তাঁর কাছাকাছি দাঁড়িয়েছিল। এরপরই পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করে এবং স্থানীয় তথ্য সংগ্রহে নামে।
মোবাইল চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় মেহরৌলি থানার ওসি-র তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। তদন্তকারীরা ১০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় দোকানদার ও অন্যান্য সূত্র থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে ছত্তরপুর মন্দির রোড এলাকায় ফাঁদ পেতে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় একাধিক চুরি হওয়া মোবাইল ফোন।
পুলিশ জানিয়েছে, মোট ৭২টি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে অভিযোগকারীর ফোনটিও রয়েছে। জেরায় অভিযুক্তরা দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মোবাইল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের। তারা চুরি হওয়া ফোন বেআইনি বাজারে বিক্রি করতে যাচ্ছিল বলেও জানা গিয়েছে।
গ্রেফতারদের নাম মনোজ ওরফে কালা ওরফে বুলেট (২৮), সূরজ ওরফে ছোট্টা পাওয়া (২৬) এবং সঞ্জয় ওরফে মোহিত (২৪)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের বিরুদ্ধেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে সঞ্জয় ওরফে মোহিতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি, মোট ১৯টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। মনোজের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং সূরজের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ৭২টি ফোনের সূত্র ধরে দিল্লির মেহরৌলি, আম্বেদকর নগর, সাকেত, উত্তম নগর, কাশ্মীরি গেট, নিউ দিল্লি রেল স্টেশন-সহ একাধিক থানার মামলা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও ৩২টি মোবাইল দিল্লি ও গুরুগ্রামের হারানো মোবাইলের অভিযোগের সঙ্গে মিলে গিয়েছে।
তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















