নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশালগড়, ২১ মে: বিশালগড়ের চন্দ্রনগর এলাকার এক পুরকৌশলীর বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন, পণের দাবিতে চাপ সৃষ্টি এবং পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত রিপন খান, পিতা ফিরোজ খান, পেশায় একজন পুরকৌশলী। বর্তমানে স্ত্রী হাসনা ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগ, বিবাহিত জীবন চলাকালীন রিপন খান এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই মহিলার নাম রিনা আক্তার বলে দাবি করেছে অভিযোগকারী পরিবার। এই সম্পর্কের জেরেই ধীরে ধীরে স্ত্রী হাসনার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ।
হাসনার পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় মেয়ের পরিবার থেকে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার, কাঠের আসবাবপত্র, নগদ দেড় লক্ষ টাকা সহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালির সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। এরপরও অভিযুক্ত রিপন খান আরও পাঁচ লক্ষ টাকা পণের দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করায় হাসনার উপর অত্যাচার শুরু হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে হাসনা ও তাঁর ছোট সন্তানকে মারধর করে বাপের বাড়ি বিশালগড়ের উত্তর রাউৎখলা এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে স্বামী আর কোনও খোঁজখবর নেননি। এমনকি শিশুর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও নিজের কাছেই রেখে দেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে কাগজপত্রের অভাবে প্রায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুটিকে স্কুলে ভর্তি করানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় পরিবার।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতেও মামলা চলছে। একাধিকবার সালিশি সভা হলেও এখনো পর্যন্ত সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ হাসনার পরিবারের। বর্তমানে সন্তানের ভবিষ্যৎ ও ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন হাসনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।



















