আগরতলা, ২১ মে: রাজ্য পুলিশে ২১৮ জন সাব ইন্সপেক্টরকে খুব সহসাই নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ত্রিপুরায় পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরো উন্নতমানের করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে আজ ত্রিপুরায় সূচনা হলো ১১২ ইন্ডিয়া মোবাইল অ্যাপ টেকনিক। এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন নারী ও প্রবীণরা।
আজ নরসিংগড়স্থিত কেটিডিএস পুলিশ ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রাজ্য পুলিশের নবনিযুক্ত কনস্টেবলদের (পুরুষ ও মহিলা) পাসিং আউট প্যারেডে উপস্থিত থেকে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা পুলিশিং ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তুলে ধরেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী।
পরবর্তী সময়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ কেটিডিএস পুলিশ ট্রেনিং একাডেমিতে ত্রিপুরা পুলিশের নবনিযুক্ত কনস্টেবলরা ট্রেনিং নিয়েছে। আরেকটি মাঠে অন্য কনস্টেবলরা ট্রেনিং নিয়েছে। আজ তাদের পাসিং আউট প্যারেড। এর মধ্য দিয়ে তারা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলো। আজ এখানে ৯১তম ও ৯২তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড হয়েছে। এবার পুরুষদের চাইতে মহিলা পুলিশ কর্মীদের সংখ্যা বেশি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে পুলিশে মহিলাদের ক্ষমতায়ন করছি আমরা। যা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে পুরুষদের চাইতে মহিলারা অনেক আন্তরিক, নিষ্ঠাবান ও সৎ থাকেন। আমি আশা করি ত্রিপুরা পুলিশ বাহিনী আরো শক্তিশালী হতে যাচ্ছে। ত্রিপুরা পুলিশ ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির কালার্স সম্মান পেয়েছে। ত্রিপুরা পুলিশের ১৫০ বছরও পূর্ণ হয়েছে। আজ এখানে পুরো প্যারেড নিয়ন্ত্রণ করেছেন এক মহিলা কমান্ডার। যা আমাদের সকলের জন্য খুবই গর্বের ও আনন্দের।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আমরা মোট ৯৭৫ জনকে অফার বিতরণ করেছি। এরমধ্যে আজ ৪৭৬ জন পাসিং আউট প্যারেডে যুক্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ৩১৮ জনই মহিলা। আর রামারাও ট্রেনিং সেন্টারে ৪৭৫ জন ট্রেনিং নিয়েছেন। এছাড়া ডাই ইন হারনেসে পাওয়া আরও ১৩ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ত্রিপুরা পুলিশ এখন সারা ভারতবর্ষ তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য স্থানে রয়েছে। প্রযুক্তিগত বিষয়েও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাবে। শারীরিক প্রশিক্ষণ সহ আইন বিষয়েও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল ওয়ারফেয়ার, ফিল্ড ক্র্যাফ্ট, দুর্যোগ মোকাবিলা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাদের। এর পাশাপাশি আরও ২১৮ জন সাব ইন্সপেক্টরকে খুব সহসাই নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আরও ৯১৬ জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য ক্যাবিনেটে পাস করা হয়েছে। এজন্য প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথম রাজ্য যেখানে ১০ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এ হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা চত্বরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা নিয়ে প্রদর্শনী করা হয়েছিল। আর এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। আজ খুশির বিষয় এটাই যে ১১২ ইন্ডিয়া মোবাইল অ্যাপ টেকনিক ফিচারের সূচনা করা হয়েছে। ত্রিপুরা দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে এই অ্যাপের সূচনা হলো। এতে মহিলা ও প্রবীণরা যারা রাত্রিবেলা একা বের হন তাদের জন্য সুবিধা হবে। এই অ্যাপ মোবাইলে ডাউনলোড করা থাকলে লোকেশান অন রেখে ডেঞ্জার বোতামে টিপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। কারণ মানুষের নিরাপত্তা সবচাইতে বড় বিষয়। ত্রিপুরায় পুলিশিং ব্যবস্থা যাতে আরো উন্নতমানের হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। আমরা চাই সারা ভারতবর্ষের মধ্যে পুলিশিং ব্যবস্থায় ত্রিপুরা যাতে আরও এগিয়ে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো জানান, আজ থেকে প্রায় ৮/৯ মাস আগে আমি যশস্বী গৃহমন্ত্রীকে টিএসআরের দুটো আই আর ব্যাটেলিয়ন দেওয়ার জন্য। একটা আগেই দিয়েছিলেন। এবার আরেকটা দিলেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানাই। এতে চাকরি ক্ষেত্রে যেমন সুবিধা হবে তেমনি নিরাপত্তার বিষয়টিও আরো জোরদার হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে ড্রাগসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ, কেটিডিএস পুলিশ ট্রেনিং একাডেমির প্রিন্সিপাল জয়ন্ত চক্রবর্তী সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।


















