তিরুবনন্তপুরম, ১২ মে (আইএএনএস) : কেরলে বিধানসভা নির্বাচনে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের ভরাডুবির পর এবার জোটের অন্দরেই প্রকাশ্যে সামনে আসতে শুরু করেছে মতবিরোধ। বিরোধী দলনেতার উপপদ ঘিরে সিপিআই ও সিপিআই(এম)-এর টানাপোড়েন এখন বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতার ডেপুটি পদটি সিপিআইকে দেওয়ার দাবি প্রকাশ্যে তোলেন সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক বিনয় বিশ্বম। তাঁর এই অসন্তোষ প্রকাশ করে এলডিএফ কনভেনর টি. পি. রামকৃষ্ণন বলেন, এ ধরনের মন্তব্যের বিষয় জোটের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে আলোচনা হওয়া উচিত, সংবাদমাধ্যমের সামনে নয়।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিরোধ শুধুমাত্র একটি পদকে কেন্দ্র করে নয়, বরং বাম শিবিরের ভিতরে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
পিনারাই বিজয়ন-এর নেতৃত্বে টানা এক দশক ক্ষমতায় থাকার সময় অন্তত দু’বার সিপিআই এমন অবস্থান নিয়েছিল, যাতে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের অবস্থান নরম করতে হয়েছিল। যদিও সিপিআই জোটে ছোট শরিক হিসেবেই ছিল, তবুও তারা কখনও পুরোপুরি সিপিআই(এম)-এর আধিপত্য মেনে নিতে রাজি ছিল না।
এবার নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর সেই অস্বস্তি আরও প্রকট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় মূল্যায়নে সিপিআই নাকি সরাসরি পিনারাই বিজয়নের কাজের ধরণ ও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছে। জোটসঙ্গীর তরফে এমন সরাসরি আক্রমণ রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সিপিআইয়ের দাবি, এই নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরে জোটের ভিতরে নতুন করে সমন্বয় ও শরিক দলগুলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে সিপিআই(এম) এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা পদগুলি ছাড়তে অনিচ্ছুক বলেই খবর।
ফলে বাম জোটের দীর্ঘদিনের চাপা দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হতে চলেছে কি না, তা নিয়ে কেরলের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ১৪০ সদস্যের কেরল বিধানসভায় এলডিএফ মাত্র ৩৫টি আসনে জয় পেয়েছে। আগের বিধানসভায় তাদের আসন সংখ্যা ছিল ৯৯।



















