আগরতলা, ২৩ এপ্রিল: কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল পার্সোনাল ডাটা প্রোটেকশন (ডিপিডিপি) আইনকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা শানাল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। এক প্রেস বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, এই আইন কার্যকর হলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, আরএসএস ও বিজেপি দেশের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কায়েমের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সেই প্রেক্ষিতে ডিলিমিটেশন এবং লোকসভা আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনার সঙ্গে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি যুক্ত করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
প্রবীর চক্রবর্তী দাবি করেন, ডিপিডিপি আইনের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে তথ্যের স্বচ্ছতা কমিয়ে ‘তথ্য না জানানোর অধিকার’-কে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, এর ফলে তথ্য জানার অধিকার-এর কার্যকারিতা প্রায় ভেঙে পড়বে এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের ফলে সংবাদমাধ্যম বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যে স্বাধীনতা সাংবাদিকরা এতদিন ভোগ করে আসছিলেন, তা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। কোনও ব্যক্তির তথ্য প্রকাশের আগে তার অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাস্তবে সংবাদ পরিবেশনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
প্রেস বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আইনের বিভিন্ন ধারায় কঠোর জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিপুল আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হবে বলে দাবি করা হয়।
প্রদেশ কংগ্রেসের অভিযোগ, এই আইন মূলত প্রভাবশালী ও দুর্নীতিগ্রস্ত মহলকে রক্ষা করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এই প্রেক্ষিতে দলটি সংবাদমাধ্যমসহ সমাজের সকল সচেতন ও গণতান্ত্রিক মানসিকতার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই আইন প্রত্যাহারে কেন্দ্রীয় সরকারকে বাধ্য করার ডাকও দেওয়া হয়েছে প্রেস বিবৃতিতে।


















