আগরতলা, ২৩ এপ্রিল; মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা। মেলাঘর পৌর পরিষদের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষ নগর এলাকার এক হতদরিদ্র পরিবারের কলেজপড়ুয়া কন্যা সুমিত্রা দত্তের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়ালেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে থানার কাজ শেষ করে সরাসরি ওই ছাত্রীর বাড়িতে পৌঁছান ওসি। যদিও সে সময় সুমিত্রা কলেজে থাকায় তার সঙ্গে দেখা হয়নি। পরে তার শয্যাশায়ী পিতা স্বপন দত্ত ও মা কাজল দত্তের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বপন দত্তের শরীরের একটি অংশ অকেজো হয়ে পড়ে। পেশায় রাজমিস্ত্রির যোগালি হওয়ায় তার ওপরই নির্ভর করত সংসারের রোজগার। অসুস্থতার পর থেকে সেই আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবারটি। অনেক সময় উপোস থাকতে হচ্ছে বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, সুমিত্রা দত্ত উদয়পুর কলেজে শিক্ষাবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স নিয়ে পড়ছে। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে তার কলেজে যাতায়াত পর্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেক সময় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার করে ভাড়া জোগাড় করতে হচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে পিতার অবস্থাও দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
সম্প্রতি এই পরিবারের দুরবস্থার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি নজরে আসে ওসি অজিত দেববর্মার। এরপরই তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে তাদের বাড়িতে পৌঁছে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী—ডিম, তেল, নুন, বিস্কুট, আলু, সয়াবিন, মুড়ি, সাবান, পেঁয়াজ ইত্যাদি তুলে দেন। পাশাপাশি সুমিত্রার এক বছরের যাতায়াত খরচও তার মায়ের হাতে তুলে দেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওসি জানান, খবরটি দেখে আমি নিজেকে আটকে রাখতে পারিনি। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ভবিষ্যতে মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে তার পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আমি সহযোগিতা করব।
ওসির এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছে গোটা মেলাঘরবাসী। এলাকার মানুষের কথায়, মানুষ মানুষের জন্য—এই কথাটির বাস্তব উদাহরণ স্থাপন করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগেও বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি একাধিক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করেছেন। তার এই মানবিক উদ্যোগে ব্যাপক প্রশংসার ঝড় উঠেছে এলাকায়।


















