আগরতলা, ২৩ এপ্রিল: বিরোধীদের কারণে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের সংশোধনী পাস করা যায়নি। এই সংশোধনী বিল ভারতে নারী শক্তির জন্য এক মহাযজ্ঞ। এটা শুধু রাজনীতির ভবিষ্যত নয়, দেশের ভাগ্যকেও বদলে দেবে। কিন্তু ইন্ডি জোট বা বিরোধীরা আবারও মহিলাদের অপমান করলেন এবং সমগ্র জাতিকে বঞ্চিত করেছেন। কারণ তারা নিজেদের রাজনৈতিক জমি রক্ষা করার জন্য মরিয়া। তারা শুধু আত্মকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন।
আজ আগরতলায় ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। সাংবাদিক সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু ছিল – নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম, যেটা নারী শক্তি বা মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৩ – আমার মনে হয় ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটা বৈপ্লবিক অধ্যায়। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলারা যাতে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ পায় সেটা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক আইন। এটা মহিলাদের অধিকার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি ভারতে নারীদের নেতৃত্বে উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন সংসদ ভবনে বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে বিলটি পাস হয়। আর সেই আইনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ অর্থাৎ এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ করা। যেটা ভারতের রাজনৈতিক কাঠামোতে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের একটা প্রয়াস। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যেটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৮তম সংশোধনী বিল মোতাবেক সেটা উত্থাপিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এটি ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। নারী সংরক্ষণের এই দাবি শুধু একদিনের নয়, অনেকদিন ধরেই হচ্ছিল। প্রায় দীর্ঘ তিন দশকের সংগ্রাম এটা। ১৯৯৬ এ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার আমলে প্রথম পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু তখন সেটা পাস হয় নি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে অনেকবার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তখনও বিরোধীদের তরফে বারবার বাঁধা দেওয়া হয়। ২০১০ এ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সময়ে রাজ্যসভায় পাস হলেও লোকসভায় সেটা পাস হয়নি। তখন সমাজবাদী পার্টি ও আরজেডি বিরোধীতা করেছিল। এরপর ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়ে রাজ্যসভা ও লোকসভায় বিপুল ভোটে এই বিলটি পাস হয়।
সংবাদ মাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, এই বিলে বলা হয়েছে যে দিল্লি বিধানসভার ক্ষেত্রেও মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ রাখতে হবে। অনুরূপভাবে এসসি এসটি সংরক্ষিত আসনেও মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ রাখতে বলা হয়েছে। আর প্রতিটি নির্বাচনের পরেই ডিলিমিটেশান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই আসনগুলি রোটেশন্যাল সিট হবে। যাতে সব নির্বাচনী এলাকা থেকে মহিলারা প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। এটার মেয়াদকাল দেওয়া হয়েছে ১৫ বছর পর্যন্ত। কিন্তু সংসদ যদি চায় সেটাকে বৃদ্ধিও করতে পারে। এই আইনটি যেখানে সরাসরি নির্বাচন হবে সেখানে প্রযোজ্য। রাজ্যসভার সদস্যদের জন্য এই আইন বলবৎ না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালে এই আইন পাস হওয়ার পরেও কিছু বিষয় লক্ষ্য করা যায়। তাই ২০২৬ সালে এপ্রিল মাসে আবার সংসদে পেশ হয়। এর মূল কারণ হচ্ছে এটাকে বাস্তবায়ন করতে হলে অনেক দেরিতে করতে হবে। সেখানে বলা হয়েছে যতক্ষণ ধরে আদমশুমারি শেষ না হবে ততক্ষণ এটা লাগু করা যাবে না। কারণ বর্তমানে আদমশুমারি প্রক্রিয়া চলছে। সেই হিসেবে আরো অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তারজন্য সংশোধনীর জন্য আবার এই বিলটি আনা হয়। যাতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এটা বাস্তবায়ন করা যায়। এনিয়ে লোকসভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিরোধীরাও আলোচনা উত্থাপন করেছেন। দেখা যায় লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ কিংবা তার বেশিও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত, পুরুষদের আসন সংখ্যা ঠিক রেখে মহিলাদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেটা সংসদে পেশ করা হয়। যা ১৩১তম সংশোধনী হিসেবে পেশ করা হয়। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজন দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার। যা বিরোধীরা পাস হতে দেয়নি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, বিধায়ক অন্তরা দেব সরকার, মিডিয়া ইনচার্জ সুনিত সরকার।



















