News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • স্ত্রী ও শিশুকন্যা নিখোঁজ, পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ: কৈলাসহরের বিপুল মালাকারের সংসারে ঘোর অন্ধকার
Image

স্ত্রী ও শিশুকন্যা নিখোঁজ, পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ: কৈলাসহরের বিপুল মালাকারের সংসারে ঘোর অন্ধকার

কৈলাসহর, ১ মার্চ: সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সুদূর ব্যাঙ্গালোরে  কাজে গিয়েছিলেন কৈলাসহরের চন্ডিপুর ব্লকের সমরুরপার গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিপুল মালাকার। কিন্তু সেই যাওয়াই যেন কাল হলো তাঁর সাজানো সংসারের জন্য। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছেন তাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়া মালাকার এবং নয় বছরের শিশুকন্যা। ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এখন দিশেহারা বিপুল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিপুল ব্যাঙ্গালোরে কাজে যান। সেখানে থাকাকালীন স্ত্রীর ফোনে মাঝেমধ্যেই দীর্ঘক্ষণ ‘বিজি’ টোন পেতেন তিনি। স্ত্রী সুপ্রিয়া দাবি করতেন, তিনি মায়ের সাথে কথা বলছেন। কিন্তু একদিন শাশুড়ির সাথে সরাসরি কথা বলে বিপুল জানতে পারেন, সুপ্রিয়ার দাবি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই মিথ্যাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই তিক্ততা বাড়ে এবং সুপ্রিয়া স্বামীর নম্বর ব্লক করে দেন। গত ৯ই জানুয়ারি দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে ছোট মেয়েকে সাথে নিয়ে আসামের কালাইনে বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হন সুপ্রিয়া।

১০ই জানুয়ারি পর্যন্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ থাকলেও ১৪ই জানুয়ারি হঠাৎ বিপুলের শাশুড়ি ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া চার দিন ধরে নিখোঁজ। প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিয়া যদি বাপের বাড়ি না-ই পৌঁছে থাকেন, তবে চার দিন পর কেন শাশুড়ি নিখোঁজ সংবাদ দিলেন? এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।

ব্যাঙ্গালোর থেকে তড়িঘড়ি ফিরে এসে গত ২২শে জানুয়ারি কৈলাসহর মহিলা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন বিপুল। এরপর সুপ্রিয়া দুটি ভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে জানান যে তিনি ভালো আছেন এবং তাকে যেন খোঁজা না হয়। বিপুল সেই নম্বরগুলো পুলিশকে দিলেও অভিযোগ, কৈলাসহর মহিলা থানার পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি অভিযোগের এক মাস আট দিন অতিক্রান্ত হলেও বিপুলকে এফআইআর – এর কোনো ‘রিসিভ কপি’ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

উল্টে পুলিশের পক্ষ থেকে নানাবিধ ‘অনৈতিক দাবি’ করা হচ্ছে বলে বিপুল দাবি করেছে। বাড়িতে পড়ে থাকা অপর দুই কন্যা সন্তান মা ও ছোট বোনের অপেক্ষায় দিনরাত কাঁদছে। একদিকে স্ত্রী-সন্তানের দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে পুলিশি হয়রানি ও আর্থিক অনটন— সব মিলিয়ে বিপুল মালাকারের জীবন এখন দুর্বিষহ। কৈলাসহর মহিলা থানার এই বিতর্কিত ভূমিকা নতুন নয়। এর আগেও একাধিক ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে পুলিশ কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন, গরিব রাজমিস্ত্রির পরিবার কি তবে ন্যায়বিচার পাবে না? কেন পুলিশ তথ্য থাকা সত্ত্বেও তদন্তে গড়িমসি করছে? ​বর্তমানে স্ত্রী ও সন্তানের ফিরে আসার পথ চেয়ে দিন গুনছেন বিপুল। এখন দেখার বিষয়, জেলা পুলিশ প্রশাসন এই অসহায় পরিবারটির দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় কি না।

Releated Posts

বিজেপির কর্মীরা অনাথ নয়, আক্রান্ত বিজেপি কর্মীকে দেখতে গিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি প্রতিমা ভৌমিকের

আগরতলা, ১৫ জুলাই: রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। বুধবার আগরতলার জিবি…

ByByReshmi Debnath Jul 15, 2026

মাত্র তিনজন শিক্ষকেই চলছে স্কুল, শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পঠনপাঠন

আগরতলা, ১৫ জুলাই: কমলাসাগর বিধানসভা এলাকার হরিশনগর নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাদান।…

ByByReshmi Debnath Jul 15, 2026

মারুতি ইকো গাড়িতে ফেলে আসা ব্যাগ উদ্ধার না হওয়ায় থানায় অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে উদ্বেগে মালিক

আগরতলা, ১৫ জুলাই: উদয়পুর থেকে আগরতলা আসার পথে একটি মারুতি ইকো গাড়িতে ফেলে আসা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রভর্তি ব্যাগ এখনও…

ByByReshmi Debnath Jul 15, 2026

খোয়াই শ্রীনাথ বিদ্যানিকেতন জনজাতি হোস্টেলে খাবারের অনিয়মের অভিযোগ, পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে এসএফআই-এর ডেপুটেশন

আগরতলা, ১৫ জুলাই: খোয়াই শ্রীনাথ বিদ্যানিকেতন বিদ্যালয়ের জনজাতি হোস্টেলে খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে অভিযোগ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন…

ByByReshmi Debnath Jul 15, 2026
Scroll to Top