৬ লাখ টাকার ২৪ প্যাকেট শুকনো গাঁজাসহ আটক বিহারের চার মহিলা ও ত্রিপুরার অল্টো চালক

চুরাই বাড়ি, ১২ ডিসেম্বর: ত্রিপুরা–অসম সীমান্তবর্তী চুরাইবাড়ি থানার নাকা পয়েন্টে শুক্রবার ভোররাতে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা উদ্ধার করল পুলিশ। ৮ নম্বর অসম–আগরতলা জাতীয় সড়কে রুটিন যানবাহন তল্লাশির সময় টিআর০৫_ বি_ ০৩১৪ নম্বরের একটি অল্টো গাড়ি থামাতেই ফাঁস হয়ে গেল আন্তঃরাজ্য মাদক চক্রের ছক।

তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ গাড়িতে যাত্রী সেজে বসে থাকা চার মহিলার ব্যাগ এবং গাড়ির বিভিন্ন গোপন চেম্বার থেকে একের পর এক ছোট-বড় মোট ২৪টি প্যাকেট শুকনো গাঁজা উদ্ধার করে।যার মোট ওজন প্রায় ২০ কেজি, যার কালোবাজারি মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

আটকদের মধ্যে চারজনই বিহার রাজ্যের বাসিন্দা—ধৃতরা যথাক্রমে মংলি দেবী (২৮),কবিতা দেবী (৩৫),অনিতা দেবী (৩৮),সুতুর কুমারী (৩০)।এছাড়া গাড়ির চালক হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগর–হাফলং এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মালাকার (৩০)।

চুরাইবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ দেবব্রত বিশ্বাস জানান, অত্যন্ত কৌশলে ব্যাগের নিচে ও গাড়ির বিভিন্ন ফাঁক–ফোঁকর, ড্যাশবোর্ড ও সিটের নিচের গোপন অংশে প্যাকেটগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রথমে যাত্রী সেজে থাকা হওয়ায় সন্দেহ কম ছিল, কিন্তু পুলিশের তল্লাশি দল গাড়ির আচরণে অসঙ্গতি টের পেয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান চালায়।

তিনি জানান, “গাঁজাগুলি মহিলাদের ব্যাগ সহ অল্টো গাড়ির বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লুকানো ছিল। আটক পাঁচজনই এই পাচারচক্রের সাথে জড়িত বলে নিশ্চিত।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতরা আমবাসা অঞ্চল থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে বিহারের দিকে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই এই রুট ব্যবহার করে পাচারচক্র সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

ইতিমধ্যেই চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করেছে এবং ধৃতদের ধর্মনগর জেলা ও দায়রা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চুরাইবাড়ি নাকা পয়েন্টে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মাদক–বিরোধী অভিযান সফল হওয়ায় সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আগামীতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।