News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • “বিচার নয়, রাজনৈতিক প্রতিশোধ” দাবি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
Image

“বিচার নয়, রাজনৈতিক প্রতিশোধ” দাবি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

ঢাকা, ১৭ নভেম্বর : বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার এক তীব্র বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের রায়কে “ভেজাল ট্রাইব্যুনাল” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই রায় একটি অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতের পুতুল এবং সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

একটি বাংলাদেশী আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটিএ), ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র আন্দোলন দমনকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ঢাকা ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনা এবং তার দুই সহঅভিযুক্ত সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল একযোগে ওই আন্দোলন দমন করতে নৃশংস কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।

বিচারের এই রায়ে শেখ হাসিনা পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ হলো নিরস্ত্র ছাত্রদের উপর ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দেওয়া। হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ছাত্রদের ওপর সহিংস হামলা চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে উসকানি দিয়েছিলেন এবং গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

রায়ের পর, এক বিবৃতিতে হাসিনা বলেছেন, “এই রায়টি একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি একটি ভেজাল ট্রাইব্যুনাল থেকে এসেছে। এই বিচার গণতন্ত্রবিরোধী এবং একটি অবৈধ সরকারের রচনা। তারা শুধু আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে।” হাসিনা আরও বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের শেষ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অবৈধভাবে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে চাইছে।”

তিনি বলেন, “ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে বর্তমান প্রশাসন দেশের জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে এবং এক ধরনের নির্মম দমননীতি চালু করেছে। জনগণ আজ বুঝতে পারছে যে, এই বিচার একটি রাজনৈতিক ফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়।”

শেখ হাসিনা তার বিবৃতিতে একের পর এক অভিযোগ তুলে বলেন, “ড. ইউনুসের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে পড়েছে। পুলিশের হাতে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে, তারা সাধারণ জনগণের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে, এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের প্রতি অত্যাচার করছে।” হাসিনা আরও বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং **নিরাপত্তা বাহিনী** জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।”

হাসিনা বলেন, “এই আইসিটিএর বিচার কখনও আন্তর্জাতিক আদালতের মাপকাঠিতে টেকসই হতে পারে না। আমি বারবার দাবি করেছি যে এই অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে যাওয়া হোক, কিন্তু এটি তারা কখনো মেনে নেবে না। কারণ তাদের নিজের অপরাধের জবাবদিহি হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এই সরকার জানে যে আইসিসি আমাকে নির্দোষ প্রমাণিত করবে এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলি সামনে আসবে।”

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, “আইসিটিএটি মূলত আওয়ামী লীগ বিরোধী এবং অবৈধভাবে পরিচালিত। এই আদালতের একাধিক বিচারক এবং আইনজীবী যারা আগেও আমার সরকারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, তাদেরকে ভয় দেখানো হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার করা হচ্ছে। অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে যে সমস্ত সহিংসতা ঘটেছে, তার কোনো বিচার হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “এই আদালত সেই একই জায়গা, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন এই আদালত একটি প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, যাতে একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া যায়।” হাসিনা দাবি করেছেন, “এই রায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার একটি ষড়যন্ত্র।”

শেখ হাসিনা তার সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি এবং মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যোগ দিয়েছি, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছি, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিক করেছি, এবং গ্রামীণ শিক্ষা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করেছি। আমাদের সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অবিশ্বাস্য, যেখানে জিডিপি বৃদ্ধি ৪৫০%।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড পৃথিবীর কাছে স্পষ্ট, কিন্তু ড. ইউনুস এবং তার অনুগতরা এমন কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।”

এই রায় বাংলাদেশের ভবিষ্যত পরিস্থিতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন একদিকে হাসিনা এবং তার দল, অপরদিকে ইউনুস প্রশাসন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলবে।

বিশ্বব্যাপী এই রায়ের প্রভাব এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার দলের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে পুনঃবিচারের দাবি জানানো হয়েছে এবং সরকারকে বিচারের খোলামেলা এবং সঠিক পরিবেশে পুনঃমূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে।

Releated Posts

প্রথাগত সংবাদমাধ্যম থেকে মুখ ফিরিয়েছি, আমি না থাকলে দর্শক-শ্রোতাও থাকবে না: ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এখন আর প্রথাগত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করেন…

ByByNews Desk Jul 25, 2026

এআই-নির্মিত ডিপফেক ভিডিও ঘিরে পুলিশে অভিযোগ পীযূষ গয়ালের, জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তাঁর সংসদের বাইরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও বিকৃত করে…

ByByNews Desk Jul 25, 2026

পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় রদবদল, এনটিএ-র ৪৭ আধিকারিককে বরখাস্ত কেন্দ্রের

নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস) : দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার।…

ByBySandeep Biswas Jul 24, 2026

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, সিজেপি আন্দোলনে পেলেট ব্যবহারের বিষয়ে ‘মিথ্যা বলছে’ কেন্দ্র

নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-র ব্যানারে…

ByBySandeep Biswas Jul 24, 2026
Scroll to Top