জাতিসংঘ, ১০ অক্টোবর: বিজেপি সাংসদ পি.পি. চৌধুরী জাতিসংঘে হিন্দি দিবস উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বিশ্বযোগাযোগের ভাষা হিসেবে এখন হিন্দি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়া, যোগব্যায়াম ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার প্রসারে হিন্দির ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে।
চৌধুরী বলেন, এই ডিজিটাল যুগেও হিন্দি তার বিশ্বময় প্রভাব ধরে রেখেছে। এটি শুধুমাত্র একটি ভাষা নয়, বরং ভারতের আত্মা, পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক।” তিনি আরও যোগ করেন, “উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—পুরো দেশকে একসূত্রে গেঁথে রাখে হিন্দি।
চৌধুরীর বক্তব্যে উঠে আসে যে, মরিশাস, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, সুরিনাম, ফিজি ও গায়ানার মতো দেশে হিন্দি নিয়মিত পড়ানো ও ব্যবহার করা হচ্ছে। মরিশাসে অবস্থিত বিশ্ব হিন্দি সচিবালয় হিন্দি ভাষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও হিন্দি ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং হার্ভার্ড, কলাম্বিয়া, কর্নেল, শিকাগো ও টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিন্দি পড়ানো হচ্ছে।
জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ বলেন, “ভারতে সংবিধান স্বীকৃত ২২টি ভাষা ও হাজারো উপভাষার মাঝে হিন্দি একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।” তাঁর মতে, হিন্দি এখন ভারতের প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক এবং বলিউড, সাহিত্য ও প্রবাসী ভারতীয়দের কারণে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের কমিউনিকেশনস ক্যাম্পেইন সার্ভিসের প্রধান ন্যানেট ব্রাউন বলেন, “হিন্দি এখন বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষা (ইংরেজি ও ম্যান্ডারিনের পর)।” তিনি জানান, জাতিসংঘ ২০১৮ সালে হিন্দি ভাষায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম চালু করে এবং ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে হিন্দি নিউজ ওয়েবসাইট চালু করে। গত এক বছরে এই ওয়েবসাইটে ৩.৪৬ লক্ষ ভিউ ও ১.৯৩ লক্ষ সক্রিয় ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে।
নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি লোক বাহাদুর থাপা বলেন, হিন্দি ও নেপালি ভাষা উভয়ই সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত এবং দেবনাগরী লিপিতে লেখা হয়। নেপালে হিন্দি ব্যাপকভাবে প্রচলিত। অ্যান্ডোরার স্থায়ী প্রতিনিধি জোয়ান ফরনার রোভিরা জানান, তাঁর দেশ বহু ভাষার সংরক্ষণে উৎসাহী, এবং সে কারণেই তারা জাতিসংঘে দ্বিবার্ষিক বহুভাষাবাদ সংক্রান্ত প্রস্তাব সমর্থন করে। বুরুন্ডির প্রতিনিধি ল্যান্ড্রি সিনোমানা জানান, তিনি পুনে ও চণ্ডীগড়ে পড়াশোনা করার সময় হিন্দি ও সংস্কৃত ভাষা শিখেছিলেন, যা ভারতীয় সংস্কৃতি বোঝার জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল।
গায়ানার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ত্রিশালা পারসাউদ বলেন, যদিও উপনিবেশিক শাসনের কারণে হিন্দি চর্চা কমে যায়, তবুও অনেক হিন্দি শব্দ গায়ানিজ ক্রেওল ভাষায় মিশে গেছে এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধি নীল পারসান বলেন, “হিন্দি হল কবিতা, ইতিহাস, অনুভূতি—ভারতের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করেছে।”
মরিশাসের প্রতিনিধি মিলান জে.এন. মিটারভান জানান, বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে আগত শ্রমিকেরা হিন্দি ভাষা ও রামায়ণ নিয়ে মরিশাসে গিয়েছিলেন। তারা ‘বৈটকা’ নামে সন্ধ্যা বিদ্যালয় স্থাপন করে হিন্দি শিক্ষার প্রচলন করেন, যা এখনো টিকে রয়েছে।
সুরিনামের প্রতিনিধি সুনীল অগ্রম সিতালদিন বলেন, তাঁদের দেশে হিন্দি পাঁচ প্রজন্ম ধরে শুধু ভাষা নয়, ধর্ম ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত হয়েছে। এটি ‘সারনামি হিন্দি’ নামে পরিচিত, যা স্থানীয় প্রভাব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে।

