News Flash

  • Home
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  • হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে উদ্দেশ্য করে কংগ্রেস সাংসদের তীব্র কটাক্ষ: “অসমবাসী হিমন্তকে জেলে দেখতে চায়”
Image

হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে উদ্দেশ্য করে কংগ্রেস সাংসদের তীব্র কটাক্ষ: “অসমবাসী হিমন্তকে জেলে দেখতে চায়”

গুয়াহাটি, ২৬ আগস্ট: অসমের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়াল কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে। কেন্দ্রে ও রাজ্যে এক দশক ধরে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও অসমে অনুপ্রবেশ থামাতে না পারার অভিযোগ তুলে গগৈ বলেন, “১০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও যদি অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে চলে আসে, তবে তার দায় কার?” তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা তো বিজেপির হাতেই, তাহলে এই ব্যর্থতার দায় তারা এড়াতে পারে না।”

গগৈ স্পষ্টভাবে জানান, কংগ্রেস দলের অবস্থান পরিষ্কার—“কোনও বাংলাদেশি যেন বেআইনিভাবে অসমে বসবাস না করে। এটা অসম সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ দায়িত্ব।” তিনি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেন, অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে বিজেপি শুধু রাজনৈতিক সুবিধা তুলছে, বাস্তব কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

গগৈ আরও কটাক্ষ করেন, “ঝাড়খণ্ডে যেমন হিমন্তের অনুপ্রবেশ বিরোধী রাজনীতি ব্যর্থ হয়েছে, অসমেও তা ব্যর্থ হবেই। অসমের মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর চেয়েও সচেতন।”

এর আগে আরেকটি সাংবাদিক সম্মেলনে গগৈ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষায় বলেন, “উচ্ছেদ অভিযানের নামে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে গৃহহীন করে তুলেছেন। তাঁর সম্পত্তির লোভে কেউ রেহাই পায়নি—বাঙালি, আদিবাসী, সংখ্যালঘু, তপশিলি জাতি, ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের অসমবাসী হিমন্তকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, জেলের পিছনে দেখতে চায়। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবিচারের কারণে মানুষের মধ্যে সরকার সম্পর্কে আস্থা ভেঙে পড়েছে।”

এই সমস্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “যারা বাংলাদেশিদের পক্ষে কথা বলেন, তারা আসলে জিন্নাহর স্বপ্ন পূরণ করতে চান—অসমকে পাকিস্তানের অংশ বানাতে চান। কিন্তু আমরা লাচিত বরফুকনের সন্তান, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত অসম ও তার পরিচয় রক্ষার জন্য লড়ব।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশিরা অসমে স্বাগত নয়। এটা তাঁদের ভূমি নয়। যারা তাঁদের প্রতি সহানুভূতি দেখান, তাঁরা চাইলে নিজেদের বাড়ির উঠোনে তাঁদের রাখুন। অসম অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য নয়—না এখন, না ভবিষ্যতে।”

এই মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্যের জেরে অসমে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে। একদিকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের মুখোমুখি অবস্থান, অন্যদিকে উচ্ছেদ নীতিতে মানবিকতার অভাব—এই দুই ইস্যুই রাজ্যে বড় রাজনৈতিক আলোড়নের জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যুগুলিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হতে চলেছে। কংগ্রেস চাইছে মানবিক দিক ও সংবেদনশীলতা তুলে ধরে মানুষের সহানুভূতি অর্জন করতে, আর বিজেপি জোর দিচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা ও অসমীয়া পরিচয় রক্ষার প্রশ্নে।

এককথায়, অসমে এখন ‘উচ্ছেদ বনাম অনুপ্রবেশ’ নিয়ে রাজনীতি চরমে, আর সেই লড়াইয়ে গগৈ বনাম হিমন্ত হয়ে উঠছে প্রধান মুখ।

Releated Posts

সিকিমের গ্যালশিংয়ে ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধস, ১২৮ জনকে সরানো হল

গ্যাংটক, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারী বৃষ্টির জেরে সিকিমের গ্যালশিং জেলায় ভূমিধসের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে সিংলিটাম ও রিম্বি…

ByByNews Desk Sep 15, 2026

অসমে গবাদি পশু পাচার রুখে ৮২টি পশু উদ্ধার, বাজেয়াপ্ত দুই গাড়ি

গুয়াহাটি, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএনএস): গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অসমের বঙ্গাইগাঁও জেলার অভয়াপুরী এলাকায় বেআইনি ভাবে…

ByByNews Desk Sep 14, 2026

মণিপুর ও মিজোরামে ৫ মাদক কারবারি গ্রেফতার, ৫ কোটি টাকার বেশি হেরোইন উদ্ধার

ইম্ফল/আইজল, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুর ও মিজোরামে পৃথক অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ৫ কোটি ৮ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের…

ByByNews Desk Sep 14, 2026

মণিপুরে চারজন নিহতের পর কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ইম্ফল, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুরের তামেংলং ও নোনি জেলায় পৃথক হামলায় দুই মহিলা-সহ চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় কড়া…

ByByNews Desk Sep 14, 2026
Scroll to Top