News Flash

  • Home
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  • হিমন্ত বিশ্ব শর্মার তীব্র আক্রমণ: “কংগ্রেস পাকিস্তানে থাকে, বিটিআর-এ কংগ্রেসের স্থান নেই”
Image

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার তীব্র আক্রমণ: “কংগ্রেস পাকিস্তানে থাকে, বিটিআর-এ কংগ্রেসের স্থান নেই”

কোকরাঝার, ৭ জুলাই : অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তা বিশ্ব শর্মা তাঁর পাঁচ দিনের বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন সফরের প্রথম দিনেই একটি রাজনৈতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সোমবার, কোকরাঝার শহরের গ্রীন ফিল্ডে এক বিশাল সমাবেশে তিনি কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন এবং বলেন, “কংগ্রেস পাকিস্তানের। এখানে কংগ্রেসের কোনো স্থান নেই।” তাঁর এই বক্তব্য রাজনীতির মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং দলের কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী সর্মা তাঁর বক্তব্যে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন, বিশেষ করে বডোল্যান্ড অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। তিনি দাবি করেন, “বিটিআর শান্তি চুক্তির পর এই অঞ্চলে কোনো এনকাউন্টার বা বোমার বিস্ফোরণ ঘটেনি। শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র বিজেপি সরকারের কঠোর প্রচেষ্টার কারণে।” সর্মার মতে, গত পাঁচ বছর ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠার সময়, আর আগামী পাঁচ বছর হবে অঞ্চলটির সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত।

তিনি ঘোষণা করেন, “আমরা নির্বাচনে জিততে এসেছি, হারার জন্য নয়। আমরা শান্তি, উন্নয়ন এবং বিটিআর-এর মানুষের কল্যাণের জন্য এখানে আছি।” সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার বিজেপি কর্মীও এই বক্তব্যে তীব্র সমর্থন প্রদান করে হর্ষধ্বনি করেন।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এই সফরের মাধ্যমে “মিশন বিটিআর” উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করতে চান। এই পরিকল্পনার আওতায়, বিজেপি সরকার আগামী বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল নির্বাচনে জয়লাভ করতে এবং ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের জন্য একটি শক্তিশালী প্রস্তুতি নিতে চায়। সর্মা জানিয়েছেন, “বিটিসি’র নির্বাচনের পর, আমরা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কাজ শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার — বিটিআর এবং অসমে বিজেপি সরকারের পুনর্গঠন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখানে এসে গায়ের জোরে কিছু করতে চাই না, আমাদের কাজ হবে এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠিত রাখার পাশাপাশি, অসমের প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়ন সাধন করা।”

সর্মা তাঁর ভাষণে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, এখানে কংগ্রেস নেই। কংগ্রেস পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কিত। তার এই মন্তব্যে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উল্লাস তৈরি হলেও, এটি রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস নেতারা তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন, এবং এটি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত একটি মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্রী সর্মা আরও বলেন, “বিপক্ষের দলগুলো শুধু বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তারা কখনোই জনগণের উন্নতির জন্য কাজ করেনি।” এই মন্তব্যগুলো বিজেপির নির্বাচনী কৌশলের দিকে ইঙ্গিত করে, যা আগামি নির্বাচনের জন্য সমর্থন সংগ্রহ করার একটি তৎপরতা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া, মন্ত্রী অশোক সিংহাল, এবং বহু বিটিসি এক্সিকিউটিভ সদস্য , বিধায়ক এবং সিনিয়র বিজেপি নেতারা। এই উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, বিজেপি এখন বডোল্যান্ড অঞ্চলে বিশেষ মনোযোগ প্রদান করছে এবং এই অঞ্চলে তাদের রাজনৈতিক শক্তি বাড়ানোর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সমাবেশের পর, মুখ্যমন্ত্রী সর্মা জেলা কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে একটি পর্যালোচনা বৈঠকও করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করেন। তিনি জানান, সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করতে হবে এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে আরো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

“মিশন বিটিআর ” প্রকল্পের মাধ্যমে, বিজেপি শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং উন্নয়নমূলক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সর্মার মতে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শান্তি এবং সমৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করা, যাতে আগামী দিনে বডোল্যান্ড অঞ্চলের মানুষ আরও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে।

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, বডোল্যান্ড চুক্তির পর থেকে এই অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও গতিশীল হয়ে উঠেছে এবং নির্বাচনের পরেও তাদের সরকার সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তা বিস্বা সর্মার এই সফরের মাধ্যমে বিজেপি কেবল রাজনৈতিক শক্তি বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে চায়। আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে বডোল্যান্ড অঞ্চলকে শান্তি ও সমৃদ্ধির রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা।

এভাবে, “মিশন বিটিআর” কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়, বরং বিজেপির দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠতে পারে, যা আগামী নির্বাচনে দলের শক্তি আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বডোল্যান্ড অঞ্চলে বিজেপির এই উচ্চ পর্যায়ের মনোযোগ এবং তাদের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতে সমর্থন বাড়ানোর এক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হয়ে উঠবে। তবে, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং বিপক্ষের প্রতিক্রিয়া আরও উত্তপ্ত হতে পারে, কারণ নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে।

Releated Posts

দুর্গাপুজোর উপহার, অক্টোবরে অরুণোদয় প্রকল্পের ভাতা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করল অসম সরকার

গুয়াহাটি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দুর্গাপুজোর আগে অসমের মহিলাদের জন্য বিশেষ উপহার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রাজ্যের…

ByByTaniya Chakraborty Sep 25, 2026

দীনদয়াল উপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা অসমের মুখ্যমন্ত্রীর, শাসনব্যবস্থায় এখনও পথ দেখায় ‘অন্ত্যোদয়’

গুয়াহাটি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘অন্ত্যোদয়’ দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী…

ByByTaniya Chakraborty Sep 25, 2026

যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন এমন শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব, উদ্বেগ নাগাল্যান্ড শিশু অধিকার কমিশনের

কোহিমা, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন এমন শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে উদ্বেগ…

ByByNews Desk Sep 24, 2026

রাজ্যের বাইরে কারিগরি শিক্ষা নেওয়া পড়ুয়াদের মণিপুরের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর

ইম্ফল, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজ্যের বাইরে কারিগরি কোর্সে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের মূল্যবান দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে মণিপুরে…

ByByNews Desk Sep 24, 2026
Scroll to Top