দিল্লিতে বড় সাফল্য : অবৈধভাবে বসবাসরত ১৮ বাংলাদেশিসহ ২৯ জনকে দেশে ফেরত পাঠাল দিল্লি পুলিশ

নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই : অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে বড়সড় অভিযান চালিয়ে ২৯ জন বিদেশি নাগরিককে দিল্লি থেকে আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দ্বারকা জেলাধীন বিভিন্ন থানার ও স্পেশাল স্টাফের যৌথ অভিযানে জুন মাসে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১৮ জন বাংলাদেশি এবং নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, আইভরি কোস্ট, বেনিন ও তানজানিয়া-সহ বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের নাগরিক।

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) অঙ্কিত সিং এক বিবৃতিতে জানান, অবৈধভাবে বসবাসরত এই বিদেশিরা স্থানীয় সম্পদ ও জনসাধারণের পরিকাঠামোর উপর চাপ সৃষ্টি করছিল। দ্বারকা জেলায় এই প্রবণতা বাড়ছিল বলে নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৯ জন বিদেশির মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করে স্পেশাল স্টাফ, ৭ জনকে ডাবরি থানার পুলিশ, ৬ জনকে অ্যান্টি-নারকোটিক্স সেল, ৩ জনকে মোহন গার্ডেন থানার পুলিশ এবং ১ জনকে উত্তম নগর, দ্বারকা ও এএটিএস ইউনিট আটক করেছে।

নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, এদের কেউ বৈধ ভিসা ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিল, আবার কেউ কেউ ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরও দেশে ফিরে যাননি। যাঁদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তানজানিয়ার নাগরিক ইদি রাশিদ, বেনিনের নাগরিক ড্যানিয়েল জোনাস, লাইবেরিয়ার নাগরিক ড্যানিয়েল তো টুয়েহ, মার্টনিস সিবিয়েলি, নাইজেরিয়ার নাগরিক বাসিল উওয়েবুকা চিগবগ, চিনোমসো উজোর, বাসোল ওনিয়েকাচি ওকুএনু এবং আইভরি কোস্টের নাগরিক আলি বাম্বা, আনিসেট এনডা, চিয়াকা কৌলিবুলি, আসি এরিক।

এছাড়া, ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক হলেন, মো. সফিকুল ইসলাম, মোসামি, মো. ইসলাম, মো. আতিকুল, মো. বিলাল, আলপনা, আসিয়া, ললিতা বর্মণ, বিত্তু বর্মণ, ললিত বর্মণ, সান্তুনা বর্মণ এবং ৭ জন শিশু যাদের বয়স ২.৫ বছর থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।

পুলিশ জানিয়েছে, এদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল বা বৈধ ভিসাই ছিল না। যাচাই-বাছাইয়ের পর এফআরআরও (বিদেশীদের আঞ্চলিক নিবন্ধন অফিস)-তে পেশ করা হয় এবং তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ জারি হয়। এরপর তাদের ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ, যার মাধ্যমে জাতীয় রাজধানীতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান আরও চালানো হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। পুলিশের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু সম্পদ বণ্টনের জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।