নয়াদিল্লি, ৫ মে : লালকেল্লা দখলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা সুলতানা বেগমের আবেদন সোমবার খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আবেদনকারী নিজেকে শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর দ্বিতীয়ের প্রপৌত্রবধূ বলে দাবি করেছিলেন এবং জানান যে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮৫৭ সালে জোরপূর্বক লালকেল্লা ছিনিয়ে নিয়েছিল, যা এখন ভারতের সরকার ‘অবৈধভাবে’ দখল করে রেখেছে।
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ এই মামলা খারিজ করে দিল দিল্লি হাই কোর্টের আগের রায় বহাল রেখে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দিল্লি হাই কোর্টের একক বেঞ্চ আবেদনটি ‘অত্যধিক দেরিতে’ দায়ের হওয়ার যুক্তিতে খারিজ করেছিল। এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও সেই রায়কে সমর্থন জানায়।
আদালতে সুলতানা বেগম দাবি করেন, শারীরিক অসুস্থতা ও কন্যার মৃত্যুর কারণে তিনি আগে আদালতে আসতে পারেননি। কিন্তু আদালত এই ব্যাখ্যাকে “অপর্যাপ্ত” বলে মনে করেছে। আবেদন খারিজ করার সময় প্রধান বিচারপতি খান্না রসিকতায় বলেন, “শুধু লালকেল্লাই কেন? ফতেপুর সিক্রি-ও তো বাদ পড়েছে!” তিনি আরও বলেন, “মূল রিট পিটিশনটি ভিত্তিহীন ও ভুল যুক্তির উপর দাঁড়ানো ছিল। একে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলা যায় না।”
আবেদনকারী সুলতানা বেগমের দাবি ছিল, বাহাদুর শাহ জাফর দ্বিতীয়ের উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি লালকেল্লার আইনগত মালিক এবং সরকার সেখানে বেআইনিভাবে বসবাস করছে। তিনি ১৮৫৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের ঐতিহাসিক সম্পত্তির দাবিকে ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক বলে বিবেচনা করা হবে।



















