আগরতলা , ৯ সেপ্টেম্বর : একাগ্রতা আর কোন কিছু করার মানসিকতা থাকলে যেকোনো বাধাকে হেলায় তুচ্ছ করে এগিয়ে চলা যায় অভীষ্ট লক্ষ্যে । এমনটা প্রমাণিত হলো খোয়াই জেলার কল্যাণপুরের দক্ষিণ দুর্গাপুর রতিয়া গ্রামে। রতিয়া গ্রামের মেয়ে মধুমিতা দেবের হাত ধরে গোটা রাজ্য তথা দেশ গর্ব করার মতো রসদ হাতে পেয়েছে। কানাডাতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পুলিশ গেম ২০২৩ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে কল্যাণপুরের মধুমিতার ঝুলিতে একটা স্বর্ণপদক, দুটা সিলভার সহ একটা ব্রোঞ্জ পদক।
জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা বিশেষ করে অ্যাথলেটিক্সে বিশেষ আগ্রহী মধুমিতা ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলের ছাত্রী ছিল। এরপর ২০১৮ সালে খেলো ইন্ডিয়া স্কিমের আওতায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে একের পর এক সফলতা নিজের ঝুলিতে নিতে থাকে মধুমিতা। এরই মধ্যে ২০১৮ সালে খেলাধুলায় অনুপ্রেরণাকারী বাবাকে হারিয়েছে মধুমিতা, তারপরেও দমে যায়নি সে। নিজের একাগ্রতা, ইচ্ছা শক্তি আর কিছু করে দেখানোর মানসিকতায় ভর করে দিনের পর দিন কঠিন থেকে কঠিনতর অনুশীলন চালিয়ে যেতে থাকে। এরই মধ্যে সিআইএসএফে হেড কনস্টেবল হিসেবে নিযুক্তি পায় মধুমিতা। এবার ওয়ার্ল্ড পুলিশ গেমসে ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কানাডাতে চার চারটা পদক দখল করেছে কল্যাণপুরের গর্ব মধুমিতা।
গোটা বিষয় নিয়ে মধুমিতা দাবি , এখানেই সে থেমে থাকতে নারাজ, আগামী দিনে কমনওয়েলথ সহ এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছে মধুমিতা। ভাবতে অবাক লাগে, মধুমিতা এমন একটা জায়গা থেকে উঠে এসেছে যেখানে যোগাযোগের সমস্যা থেকে শুরু করে অনেক সমস্যা ছিল, যদিও বর্তমানে অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থাতে রয়েছে তার গ্রাম। তারপরেও ভাবতে অবাক লাগে কতটা প্রতিভার অধিকারিনী হলে পরে ব্রাজিল জার্মানির মতো উন্নত পরিকাঠামোতে বড় হওয়া প্রতিযোগিনীদের পেছনে ঠেলে সফলতার শিখরে পৌঁছে গেল কল্যাণপুরের প্রান্তিক গ্রামের মধুমিতা। তার এই সফলতার খবরে গোটা এলাকা জুড়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে তার ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা, সফল হতে গেলে সামনে যত প্রতিকূলতা আছে সেগুলোকে হেলায় তুচ্ছ করে এগিয়ে যেতে হবে লক্ষ্যের দিকে।



















