News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ‘‘আমার ভোট, আমার অধিকার’’ এর দাবীতে নির্বাচন কমিশনকে নাগরিক ডেপুটেশন
Image

‘‘আমার ভোট, আমার অধিকার’’ এর দাবীতে নির্বাচন কমিশনকে নাগরিক ডেপুটেশন

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ জানুয়ারী৷৷ স্বাধীন ভাবে, সুষ্ঠু ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবী নিয়ে রাজপথে নামলেন নাগরিকরা৷ গণডেপুটেশন দেয়া হল রাজ্য মুখ্য নির্বাচন অধিকারীককে৷  শনিবার রাজধানী আগরতলা শহর কাঁপিয়ে মিছিল করল নাগরিক সমাজ৷ মিছিলে হাঁটলেন বাম ও কংগ্রেসের  নবীন প্রবীণ নেতা কর্মীী৷ আওয়াজ তুললেন গত পাঁচ বছরে রাজ্যে যত নির্বাচন হয়েছে সবগুলোইতেই নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে৷ ভোট লুট করা হয়েছে৷ ছাপ্পা ভোট হয়েছে৷
‘‘আমার ভোট, আমার অধিকার’’ স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার আগরতলা শহরে রাজপথ কাঁপিয়ে পদযাত্রা করল বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং পিপলস পার্টি৷ মিছিলের সামনে ব্যানারে যার নাম দেওয়া হয়েছিল ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দলসমূহ৷ গত পাঁচ বছরে লোকসভা নির্বাচন, পুর নির্বাচন সহ বিভিন্ন নির্বাচনের ভোটদানে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বিরোধীরা ‘‘আমার ভোট, আমার অধিকার’’ স্লোগানটি আসন্ন বিধানসভায় নির্বাচনে হাতিয়ার করে আম জনতাকে নিয়ে ময়দানে নেমেছে৷
 এদিন নির্বাচন কমিশনের কাছে গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি করে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে থেকে মিছিল করে নির্বাচন কমিশনের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করতে যায় তারা৷ এদিন প্রচারে অভিমুখে ছিলেন একই ফ্রেমে ছিলেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মন, কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী, বামফ্রন্টের আহ্বায়ক নারায়ণ কর, কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ডঃ অজয় কুমার, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা জারিতা লাইটফ্রাং, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা, কংগ্রেস নেতা আশীষ কুমার সাহা, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোপাল রায় সহ কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং পিপলস পার্টির অন্যান্য নেতৃত্ব৷
বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল গত ১১ এবং ১২ জানুয়ারি রাজ্য সফরে এসে রাজনৈতিক দলগুলির সাথে কথা বলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ কমিশনের প্রতিনিধি দল বলেছেন ত্রিপুরায় নির্বাচনের পরিবেশ পরিমন্ডল নেই৷ পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দলটি বলেছেন তারা সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাইছে৷ কিন্তু যখন এ কথাগুলি নির্বাচন কমিশন বলছে তখনই দেখা যায় বিরোধীদলের কর্মীরা বিভিন্ন জায়গা আক্রান্ত হচ্ছে৷ তখন বিরোধী দলের নেতৃত্বরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাবে৷ কারণ নির্বাচন কমিশনের স্বীকার করেছে ত্রিপুরা সন্ত্রাস রয়েছে৷ তাই এবার নির্বাচন কমিশনের কাছে সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য দাবী জানিয়ে ডেপুটেশনে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি৷
 পাশাপাশি এদিন বিরোধী দলনেতা সম্প্রতি জিরানিয়ায় কংগ্রেসের মিছিলের উপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, সেদিন কংগ্রেসের ৩২-৩৩ জন কর্মী সমর্থক দৈহিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন৷ পুলিশ সেখানে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি৷ অপরদিকে কমলপুরে তিপ্রা মথার কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে খুন করা হয়েছে৷ তারপর দু’ঘণ্টা পর্যন্ত কোন হদিশ ছিল না তার৷ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেছেন মৃত৷ এছাড়াও প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্র সহ অন্যান্য এলাকায় বুথ অফিস ভাঙছে, পুড়াচ্ছে দুর্বৃত্তরা৷ কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন করা যাবে না৷ এই অবস্থায় পরিবর্তন করতে এবং সুষ্ঠুভাবে শান্তির পূর্ণ নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিরোধী দলনেতা৷ তিনি আরো বলেন আশা করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন আজকের ডেপুটেশনের পর কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করবে৷
পাশাপাশি তিনি আরো বলেন জিরানীয়ার ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের কর্তব্যের গাফিলতির কারণে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা ইতিবাচক সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখানেই থেমে গেলে চলবে না৷নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন রাজ্য থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে৷ ১৬ ফেব্রুয়ারি সকলে যাকে নিবিঘ্নে ভোট দিতে পারে সে পরিবেশ আনবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন এদিন বিরোধী দলনেতা৷
 এদিকে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বিজেপির বিরুদ্ধে একটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছরে যতগুলি নির্বাচন হয়েছে সবগুলি নির্বাচনে প্রকাশ্যে ভোট লুট হয়েছে রাজ্যে৷ মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পায়নি৷ মানুষ নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যাতে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে৷ মানুষ যদি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে জনগণ যা চাইবে সেটাই হবে৷ মানুষের রায়ে চূড়ান্ত হবে সরকার৷ পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, শাসক দলের বুকে ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে৷ তারা আর কয়েক দিনের অতিথ বলে কটাক্ষ করলেন সুদীপ রায় বর্মন৷
মিছিলে উপস্থিত সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলে, ত্রিপুরা রাজ্যে জঙ্গলে রাজত্বের অবসানের বার্তা আজকের মিছিলের মধ্য দিয়ে ঘোষিত হয়ে গেছে৷ আজকের এই মিছিলের মধ্যে দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার মানুষ সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি৷ রাজ্যের মানুষ বাধ্য করেছে সমস্ত গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দল একজোট হওয়ার জন্য৷ মিছিল থেকে এ কথা বললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা৷ তিনি বলেন ধর্মনিরপেক্ষ পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করে নিজের ভোট দেওয়ার অধিকারের জন্যই মিছিল সংঘটিত করা হয়৷ এবং দাবি জানানো হবে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাতে জিরো ভায়োলেন্সে নির্বাচন সম্পন্ন হয়৷
 দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মিছিলটি শেষ হয় পশ্চিম জেলা অফিসে সামনে৷তারপর তার জন্য নির্বাচন কমিশনের রাজ্য মুখ্য আধিকারিক কিরণ গিত্যের কাছে ডেপুটশন প্রদান করে সবকটি রাজনৈতিক দলের একটি প্রতিনিধি দল৷ উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা, কংগ্রেস নেতা  সুদীপ রায় বর্মন সহ বামফ্রন্ট এবং পিপলস পার্টির নেতৃত্ব৷ এদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সাথে ছিলেন পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার শংকর দেবনাথ৷
দাবি করা হয় যাতে সুষ্ঠুভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সংঘটিত করতে প্রশাসনিক সমস্ত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে প্রশাসন৷ এদিন ডেপুটেশনের পর কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মন জানান, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বলা হয়েছে বিজেপি কিভাবে কারচুপি করতে পারে৷ এবং আসন্ন নির্বাচনকে আবারো প্রহসনে পরিণত করতে যে প্রচেষ্টা শুরু করেছে সে বিষয়ে অবগত করা হয়৷ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আশ্বস্ত করেছেন মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে তার সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে৷ আর কোন সন্ত্রাসের ঘটনা সংঘটিত করলে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ এর পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দাবি জানানো হয়েছে গত ১৮ জানুয়ারি জিরানিয়া যে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে এর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য৷ এ বিষয়েও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আশ্বস্ত করেছেন এর তদন্ত চলছে৷
এদিকে ডেপুটেশনের পর সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে জনগণ তার অধিকার প্রয়োগের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷ পাশাপাশি একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ মিছিলে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ করেন৷ এবং সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হলো মিছিলে একটা বড় অংশ ১০,৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন৷

Releated Posts

তিপ্রাল্যান্ড ইস্যুতে প্রকাশ্যে দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আমবাসার বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দেববর্মার, রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ জুন: তিপ্রা মথা দলের অন্দরে মতপার্থক্যের জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য…

ByByReshmi Debnath Jun 11, 2026

খোয়াই আদালতের সমন অভিষেককে, ২২ জুন হাজিরার নির্দেশ

আগরতলা, ১০ জুন: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরার খোয়াই থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমন…

ByByReshmi Debnath Jun 10, 2026

তেলিয়ামুড়া হাসপাতাল বিতর্কে সরব এমডিসি রাজেশ্বর দেববর্মা, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

আগরতলা, ১০ জুন: তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল পরিদর্শনের…

ByByReshmi Debnath Jun 10, 2026

স্বচ্ছতা ও সাফল্যের সঙ্গে ১২ বছর পূর্ণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী: বিদ্যুৎ মন্ত্রী

আগরতলা, ১০ জুন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে…

ByByReshmi Debnath Jun 10, 2026
Scroll to Top