আগরতলা, ১২ ডিসেম্বর (হি. স.) : ত্রিপুরায় এসটিজিটি চাকুরী প্রত্যাশীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় শাসকের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস-সিপিএম একযোগে বিজেপি জোট সরকারকে স্বৈরাচারী এবং অমানবিক বলে তোপ দেগেছে। ওই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসও ঘোলা জলে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছে।
এদিনই বিকেলে বামপন্থী যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই ও টিওয়াইএফ রাজপথ নেমে পড়েছে। ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক নবারুন দেব এসটিজিটি চাকুরী প্রত্যাশীদের উপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করেছেন। বিজেপির বক্তব্য, প্ররোচিত হয়ে আন্দোলন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ত্রিপুরায় বিজেপি জোট সরকার যথাসময়ে চাকুরী প্রদান করবে। সকলের কাছে অনুরোধ ধৈর্য ধরুন।
আজ এসটিজি চাকুরী প্রত্যাশীরা একসাথে নিয়োগের দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রীর বাসভবন পুণরায় ঘেরাও করেছিলেন। তাঁদেরকে হটাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। তাতে, প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা বর্তমানে আইজিএম হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিত্সার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিন ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গেছেন সিপিএম, কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। আজ আইজিএম হাসপাতালে গিয়ে এসটিজিটি চাকুরী প্রত্যাশী আহতদের খোঁজ নিয়ে বের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিজেপি জোট সরকারকে নিশানা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, চাকুরী প্রত্যাশীদের উপর আজ পুলিশের লাঠিচার্জ বর্বর এবং অমানবিক ছাড়া কিছুই বলা যায় না।
তাঁর কটাক্ষ, পাঁচ বছর আগে বিজেপি ত্রিপুরার মানুষকে ঠকিয়েছে। এরপর থেকে ক্রমাগত প্রতারণা করে চলেছে। তাঁর দাবি, বামফ্রন্ট সব সময় নির্যাতিত এবং শোষিত মানুষের পাশে রয়েছে। বর্তমান শাসকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলুন। ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক নবারুন দেব ওই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল শুরু করার পূর্বে শাসক দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ অত্যন্ত নিন্দাজনক।
এদিন ওই ঘটনা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণও। তিনি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বলেন, আজ ত্রিপুরবাসী বিজেপি জোট সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের বহি:প্রকাশ দেখেছেন। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের অত্যাচার অতীতেও দেখা গেছে। কিন্তু, আজ ত্রিপুরা সরকার অহংকার এবং ঔদ্ধত্যের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। দাম্ভিকতার বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছে। তার মাশুল অবশ্যই তাঁদের গুনতে হবে, উষ্মা প্রকাশ করে বলেন তিনি।
এদিকে, ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি সকলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আবেদন জানিয়েছে। প্রদেশ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তীর কথায়, আজ প্রমাণিত হয়েছে বর্তমান সরকারের শাসনে চাকুরীর জন্য ধর্ণা দিতে হবে না। যোগ্যতার নিরিখে প্রত্যেকেই যথা সময়ে চাকুরী পাবেন। এক্ষেত্রে ত্রিপুরা সরকারকে সময় দেওয়া সকলের কর্তব্য বলে মনে করেন তিনি।
সুব্রত বাবু বলেন, ত্রিপুরায় প্রতিনিয়ত সরকারি চাকুরী প্রদানের কাজ চলছে। নতুন চাকুরী প্রদানে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারকে যেতে হচ্ছে। তা সত্বেও, প্ররোচিত হয়ে আন্দোলন অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তবেই পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। তাই সকলের অনুরোধ ত্রিপুরা সরকারের প্রতি আস্থা রেখে সময় দিন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যথা সময়ে চাকুরী প্রদান করা হবে, আবেদন রাখেন তিনি।



















