আগরতলা, ১০ অক্টোবর (হি. স.) : বাংলাদেশে ত্রিপুরায় উত্পাদিত চা রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস এবং ফেনী নদীর উপর নির্মিত মৈত্রী সেতু দ্রুত চালু করার সে-দেশের সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। তাঁর কথায়, বাংলাদেশ সরকার ত্রিপুরা থেকে চা আমদানির ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করে রেখেছে। তা কমিয়ে ২৫-৩০ শতাংশ করা হলে ত্রিপুরার চা উত্পাদকরা উপকৃত হবেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদের দু-দিন ব্যাপী ৭০-তম প্ল্যানারি মিটিংয়ে ত্রিপুরার চা বাংলাদেশে রপ্তানি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের গোচরে আনা হয়েছে। সাথে তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে চা নিলাম কেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আমদানি শুল্ক হ্রাস করলে ত্রিপুরার চা উত্পাদকরা নিলামে অংশ নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় উৎপাদিত চা-এর বাজারজাতকরণের জন্য ই-মার্কেট প্লেস-এর ব্যবহারের উপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক রাজ্য। ত্রিপুরার রাবার উৎপাদকদের বিশেষ ইনসেনটিভ প্রদান এবং আধুনিক স্মোক হাউস নির্মানের জন্য রাবার বোর্ডকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশে রাবারজাত সামগ্রী রপ্তানীর ক্ষেত্রে বন্দরের বিভিন্ন বিধিনিষেধগুলি তুলে নেওয়া প্রয়োজন বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, বৈঠকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সীমানায় একটি প্রধান ল্যান্ড পোর্ট স্থাপনের বিষয়টি ভারতের দিক থেকে পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে ত্রিপুরাকে যুক্ত করার লক্ষ্যে ফেনী নদীর উপর নির্মিত মৈত্রী সেতুকে বাংলাদেশের দিক থেকে কার্যকরভাবে চালু করতে সমস্ত সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে উল্লেখ করেছেন। মূহুরীঘাট এবং মনুঘাটে ইন্টিগ্রটেড ডেভেলাপমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মানে নো অবজেকশন প্রদানের জন্য বাংলাদেশকে সরকারকে অনুরোধ করার বিষয়টিও আলোচনায় উত্থাপিত হয়েছে, বলেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, একেবারে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত সমস্ত পণ্য সামগ্রী পরিবহন করার অনুমতি প্রদানের বিষয়টি ভারত এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একটি দীর্ঘদিনের দাবী। তাই এই বিষয়টি বিবেচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে উল্লেখ করেছেন। সাথে তিনি যোগ করেন, ত্রিপুরা সরকার বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং আগরতলার মধ্যে বিমান পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এইজন্য প্রতিবছর রাজ্য সরকার ভায়াবেল গ্যাপ ফান্ডিং হিসাবে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ভার বহন করবে। দ্রুত বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে অনুরোধ জানিয়েছেন।



















