আগরতলা, ৫ অক্টোবর (হি.স.) : উচ্চ শিক্ষায় ত্রিপুরায় সরকার পরিবর্তনের পর সাফল্য নজরে এসেছে। কারণ, একদিকে ত্রিপুরায় আরও দুটি কলেজ ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (ন্যাক) স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্যদিকে, ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (টিআইটি) কলেজে এখন পর্যন্ত চারটি বিভাগ ন্যাশনাল বোর্ড অব অ্যাক্রিডিটেশনের স্বীকৃতি পেয়েছে। বাকি একটি বিভাগের খুব শীঘ্রই স্বীকৃতি মিলবে। তাছাড়া, এই কলেজে গত বছর থেকে এম.টেক শুরু হয়েছিল। তাতে তিনটি বিভাগে ১৮ জন করে ছাত্রছাত্রী গত বছর ভরতি হয়েছিলেন। এ বছর এম.টেক-এর আরও একটি বিভাগে ছাত্র ভরতির অনুমতি মিলেছে।
এ-বিষয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ জানান, ত্রিপুরায় আরও দুটি কলেজ ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (ন্যাক) স্বীকৃতি পেয়েছে। কলেজ দুটি হলো গন্ডাছড়া এবং অমরপুর সাধারণ ডিগ্রি কলেজ। দুটি কলেজই ন্যাকের বি-গ্রেড স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের গত সাড়ে তিন বছরের সময়কালে রাজ্যের মোট ১২টি কলেজ ন্যাকের স্বীকৃতি লাভ করেছে। অথচ বিগত সরকারের ২৫ বছরের সময়কালে মাত্র ৮টি কলেজ ন্যাকের স্বীকৃতি পেয়েছিলো। বাকি ২টি কলেজ লংতরাইভ্যালি ও শান্তিরবাজার কলেজের ন্যাকের স্বীকৃতিও আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ন্যাকের স্বীকৃতি না পাওয়া গেলে কলেজগুলির গুণগতমান কি অবস্থায় আছে তা যেমন বুঝা যাবে না তেমনি রাষ্ট্রীয় উচ্চশিক্ষা অভিযান (আর ইউ এস এ) থেকেও কোনও ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে না। তাই ত্রিপুরা সরকার কলেজগুলির ন্যাকের স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে।
এদিন তিনি আরও বলেন, পূর্বতন সরকারের আমলে টিআইটি-তে কোন বিভাগেই ন্যাশনাল বোর্ড অব অ্যাক্রিডিটেশনের (এনবিএ) স্বীকৃতি ছিল না। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত চারটি বিভাগে এনবিএ-র স্বীকৃতি মিলেছে। তিনি বলেন, ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এনবিএ-র স্বীকৃতি মিলেছে।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালে মেকানিকাল, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এনবিএ-র স্বীকৃতি পাওয়া গিয়েছিল। এ বছর ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগেরও এনবিএ-র স্বীকৃতি মিলেছে। এতে নিঃসন্দেহে টিআইটি-র সুনাম বেড়েছে। তাঁর দাবি, এনবিএ-র এই স্বীকৃতি উচ্চশিক্ষায় সাফল্য বলেই মনে করি।
তিনি জানান, এনবিএ-র স্বীকৃতির জন্য ১,০০০ নম্বরের মধ্যে ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৬২৭, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৬৩৪, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৬৩৪ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৬৪১ পয়েন্ট টিআইটি অর্জন করেছে। তাঁর বক্তব্য, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এখনও এনবিএ-র স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। তবে খুব শীঘ্রই ওই বিভাগেও স্বীকৃতি মিলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

