Mysterious death of a bride : বহিঃরাজ্যে গিয়ে রহস্যজনক মৃত্যু নববধুর, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি, ১৬ সেপ্ঢেম্বর৷৷ বহিঃ রাজ্যে গিয়ে নববিবাহিত গৃহবধূর রহস্যজনক ভাবে মৃত্যুতে দেখা দিয়েছে হাজারো প্রশ্ণ৷ অভিযোগের তীর স্বামীর দিকে৷ মৃত গৃহ বধূর স্বামীর আগরতলা বিমানবন্দর থেকে পালায়ন৷ স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার মামলা৷


ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার ধর্মনগর থানাধীন টঙ্গীবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের সাত নং ওয়ার্ডের সাবাসপুড় এলাকার বাসিন্দা লায়লা বেগমের মেয়ে রাজমিনা বেগমের সাথে কদমতলা থানার অন্তরগর্ত বাঘন এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হোসেনের সাথে সামাজিক ভাবে বিবাহ হয়৷চলতি বছরের একত্রিশ মার্চ ইসলাম ধর্ম অনুসারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হলেও বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর নির্যাতন শুরু হয়৷কর্মসূত্রে স্বামী আব্দুল হোসেন ব্যাঙ্গালোরে একটি বেসরকারী কোম্পানিত কর্মরত ছিল৷


তাই পরবর্তীতে বিবাহের কিচ্ছু দিন পর আব্দুল হোসেন স্ত্রী রাজমিনা বেগমকে বাড়ীতে রেখে কর্মস্থল অর্থাৎ ব্যাঙ্গালোরে চলে যায়৷গত পনেরো দিন পূর্বে রাজমিনা বেগম তার বড় ভাইয়ের সাথে ব্যাঙ্গালোরে তার স্বামীর কাছে যায়৷ তাছাড়া রাজমিনার ছোটভাই আব্দুল রসিদ ব্যাঙ্গালোরে থাকতো৷ তাই স্বামী ও ছোট ভাইয়ের ভরসায় রাজমিনা ব্যাঙ্গালোরে পাড়ি দেয়৷ এদিকে বড় ভাই বোনকে তার স্বামীর কাছে ব্যাঙ্গালোরে রেখে কিছু দেন থাকার পর নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়৷


কিন্তু গৌহাটি আসার পর বড় ভাইয়ের কাছে খবর আসে বোন রাজমিনা বেগম ফাঁসি লেগে আত্মহত্যা করেছে৷সেই মুহূর্তে মৃতার ছোট ভাইকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাগজ পত্র ও সিগনেচার নিয়ে যায় রাজ মিনার স্বামী আব্দুল হোসেন ও তার তিন চার জন বন্ধু৷ পাশাপাশি ব্যাঙ্গালোরে স্থানীয় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়৷ তারপর বুধবার ব্যাঙ্গালোর থেকে স্বামী আব্দুল হোসেন ও মৃতার ছোট ভাই মৃত দেহ নিয়ে আগরতলা বিমানবন্দরে আসে৷ কিন্তু কফিন বন্দী মৃত দেহটি বিমানবন্দরে ফেলে স্বামী বিমানবন্দর থেকেই পালিয়ে যায়৷তারপর মৃতার পরিবারের লোকজন ধর্মনগরের সাবাস পুড়ের নিজ বাড়ীতে মৃতদেহ নিয়ে আসেন৷


মৃতদেহ বাড়িতে আনার পর পরিবারের লোকজন দেখতে পান মৃতা গৃহবধূ রাজমিনা বেগমের শরীরে অসংখ্য ক্ষতের চিহ্ণ রয়েছে৷এই ক্ষতের চিহ্ণ দেখে তাদের মধ্যে দেখা দেয় সন্দেহ৷ তারপর গতকাল রাত্রিবেলা মৃতার মা লায়লা বেগম কদমতলা থানায় মেয়ের জামাই আব্দুল হোসেনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যার মামলা দায়ের করেন৷ মৃতার পরিবার থেকে অভিযোগ করে বলা হয়,তাদের মেয়েকে অভিযুক্ত স্বামী ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে৷


রাজমিনাকে খুন করে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করার কথা বলছে স্বামী আব্দুল হোসেন৷ মৃতার বাবার বাড়ির লোকজন দাবি করেছেন পুনরায় ময়নাতদন্তের৷তবে পরিবারের লোকজন মৃতদেহ দেখে এবং স্বামীর পালিয়ে যাওয়া ও মৃতার ছোট ভাইকে আটকে রেখে জবরদস্তি সিগনেচার করানোয় একপ্রকার নিশ্চিত যে,স্বামী আব্দুল হোসেন পরিকল্পিতভাবে রাজমিনাকে হত্যা করেছে৷পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবাসপুড় এলাকাতে তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে৷এখন দেখার বিষয় পুলিশ তদন্তে নব্য বিবাহিত গৃহবধূর মৃত্যুর রহস্য কতটুকু উদঘাটন হয়৷নাকি পুলিশি তদন্তের নামেই একটি পরিকল্পিত হত্যার ঘটনা চাপা থেকে যায়, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ণ৷