News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • ডেয়ারি শিল্পের সাথে যুক্ত মানুষের রোজগার বাড়াতে দপ্তরকে গ্রামস্তরে গিয়ে কাজ করতে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
Image

ডেয়ারি শিল্পের সাথে যুক্ত মানুষের রোজগার বাড়াতে দপ্তরকে গ্রামস্তরে গিয়ে কাজ করতে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ ফেব্রুয়ারি৷৷রাজ্যের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরোও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পশুপালন, ডেয়ারী, মৎস্যচাষের মতো প্রাথমিক ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্য সরকার কাজ করছে৷ এক্ষেত্রে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরকে গ্রামস্তরে গিয়ে পরিকল্পনা তৈরী করার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পাশাপাশি রাজ্যে পোলট্রি, ডেয়ারী প্রভ’তি ক্ষেত্রে শিল্প স্থাপনে বেসরকারী উদ্যোগীদের উৎসাহ প্রদানে দপ্তরের আধিকারিকদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি৷ আজ সচিবলায়ের ২নং সভাকক্ষে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব দপ্তরের কাজকর্মে সরকারের লক্ষ্য ও দিশার কথা ব্যক্ত করেন৷


সভায় প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের সময়কালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রাথমিক ক্ষেত্রগুলিতে এন্টারপ্রেনারশিপ উন্নয়ন হচ্ছে৷ প্রাণীপালন ও ডেয়ারি শিল্পের সাথে যুক্ত মানুষের রোজগারের সুুযোগ বাড়াতে দপ্তরকে গ্রামস্তরে গিয়ে কাজ করতে হবে৷ ছোট ছোট উদ্যোগীদের অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে শিল্প স্থাপনে উৎসাহ প্রদানের পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি আরোও বলেন, বেসরকারীভাবে পশুপালন, ডেয়ারি, মৎস্যচাষ ইত্যাদি প্রাথমিক ক্ষেত্রগুলিতে সাফল্য অর্জন করেছে এমন উদ্যোগীদের ব্লকস্তরে ও জেলাস্তরে গিয়ে খঁজে বের করে দপ্তরকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে৷


পর্যালোচনা সভায় প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ কে শশীকুমার সর্বশেষ সভায় গৃহিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে যে সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরেন৷তিনি বলেন, রাজ্যে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে কাজ করছে৷২০২০-২১ অর্থবর্ষে সে’ সার্টেড সিমেন প্রযুক্তির মাধ্যমে ’ বাছুরের সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ পশ্চিম ত্রিপুরা, ধলাই, খোয়াই, গোমতী, সিপাহীজলা এই ৫টি জেলায় মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২১ সালের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত ১০ হাজার ৩৮৭টি ক’ত্রিম প্রজনন করা হয়েছে৷
দক্ষিণ ত্রিপুরা, উত্তর ত্রিপুরা এবং ঊনকোটি জেলায়ও সে’ সর্টেড সিমেন প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যে ডেয়ারী শিল্পের উন্নয়নে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ৫৭২ জন সুুবিধাভোগীকে ব্যাঙ্ক ঋণের জন্য মঢজুরী দেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যের হালাহালি এবং খয়েরপুরে ২০০০ লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি বাল্ক মিল্ক কুলার স্থাপন করা হয়েছে৷ প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা আরোও জানান, গোমতী কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার ইউনিয়ন লিমিটেডের অধীনে বর্তমানে রাজ্যে ১১৭টি ডেয়ারী কো-অপারেটিভ চালু রয়েছে৷ এছাড়াও ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর ডেয়ারী ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে গোমতী কো-অপারেটিভ রাজ্যে ১৩টি মিল্ক পার্লার স্থাপন করেছে৷


তিনি আরোও জানান, মাংস উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে রাজ্যে ২৬০টি বড়, ৩৪২টি মাঝারি এবং ৩১টি ছোট পিগারী ইউনিট চালু করা হয়েছে৷ এছাড়াও ৩২৭টি মাঝারি ছাগলের খামার এবং ৩৪টি ছাগল পালন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে৷ রাজ্যকে ডিম উৎপাদনে স্বয়ং সম্পর্ণ করার লক্ষ্যে ১০৬টি বড় এবং ৩২২৮টি ছোট পোল্টি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে৷ এছাড়াও চলতি অর্থবর্ষে ১৬৭টি ছোট হাঁস খামার তৈরী করা হয়েছে এবং রুদিজলা প্রকল্পে আরোও ৬২৬০টি হাঁসের বাচ্চা বিতরণ করা হয়েছে৷
প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা সভায় আরোও জানান, লেয়ার ফার্মিং উন্নয়নের লক্ষ্য পুরাতন আগরতলার চম্পামুড়াতে ৮ হাজার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নতুন পোলট্রি ফার্ম স্থাপন করা হয়েছে৷ বিশালগড়ে ১০ হাজার ক্ষমতা সম্পন্ন আরো একটি লেয়ার ফার্ম তৈরীর কাজ চলছে৷ এছাড়াও খয়েরপুরে প্রতিমাসে ১ লক্ষ ৮০ হাজার মুরগীর বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বড় আকারের হ্যাচারী স্থাপন করা হয়েছে৷ প্রাণী স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দপ্তর ২০২০-২১ সালে ৯ লক্ষ ৮২ হাজার গবাদিপশুকে এবং ২৩ লক্ষ ২৫ হাজার পাখির টিকাকরণ করেছে৷


এছাড়াও চলতি অর্থবর্ষে ৩ লক্ষ ৩১ হাজার পশু-পাখির চিকিৎসা করা হয়েছে৷ সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সুুযোগ সুুবিধা পর্যাপ্ত রয়েছে৷ এক্ষেত্রে উদ্যোগীদের পশুপালন, ডেয়ারী ও মৎস্যচাষ সহ প্রাথমিক ক্ষেত্রগুলিতে শিল্পস্থাপনে উদ্যোগীদের উৎসাহিত করতে হবে৷ ডেয়ারী শিল্প স্থাপনে রাজ্যের সমবায় সমিতিগুলিকেও সংযুক্ত করার প্রয়াস নিতে হবে৷ পাশাপাশি রাজ্যে দুধ ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পর্ণ করার লক্ষ্যে দপ্তরকে বিশেষ অভিযান শুরু করার জন্য বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷
পর্যালোচনা সভায় প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী শান্তনা চাকমা, মুখ্যসচিব মনোজ কুমার, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের প্রধান সচিব শশীর’ন কুমার, অর্থ দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন৷

Releated Posts

শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই

নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…

ByByNews Desk Jun 2, 2026

অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ

নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…

ByByNews Desk May 27, 2026

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের

কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…

ByByNews Desk May 22, 2026

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…

ByByReshmi Debnath May 20, 2026
Scroll to Top