কলকাতা, ১২ জুন (আইএএনএস) : একসময় পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান অর্থনীতিগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে। গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কেন্দ্রে এনডিএ সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গত ১২ বছরে দেশে ১,৩১৭টি নতুন ও আধুনিকীকৃত রেলস্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৬৪টিরও বেশি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচল করছে। একসময় রাজধানী এক্সপ্রেস ও শতাব্দী এক্সপ্রেস আধুনিক রেল পরিষেবার প্রতীক ছিল। আজ বন্দে ভারত দেশের নতুন আকাঙ্ক্ষা ও অগ্রগতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দূরত্ব ও যাত্রার সময় কমেছে, যার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২০১৪ সালে দেশে বিমানবন্দরের সংখ্যা ছিল ৭৪। বর্তমানে সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। গত ১২ বছরে ৯০টিরও বেশি নতুন বিমানবন্দর নির্মিত হয়েছে।”
সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করে তিনি জানান, প্রায় চার লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ এবং সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
তাঁর কথায়, “উন্নয়ন এখন আর শুধু মহানগরকেন্দ্রিক নয়। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে গেছে।”
পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বেড়েছে।
তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা নিয়মিত পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। আমরাও দিল্লিতে গিয়ে বৈঠক করছি। ফলে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।”
এদিন তিনি জানান, চলতি মাসের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসবেন এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
২০ জুন ‘বঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস’ উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরে একটি জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে রাজ্যের জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করতে পারেন তিনি।
এরপর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
























