News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • বিএসএনএলে স্বেচ্ছাবসরের প্রক্রিয়া শুরু, সারা দেশে ৭৮,৯১৭টি আবেদন, রাজ্যে ১৩৫ জনের
Image

বিএসএনএলে স্বেচ্ছাবসরের প্রক্রিয়া শুরু, সারা দেশে ৭৮,৯১৭টি আবেদন, রাজ্যে ১৩৫ জনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ নভেম্বর৷৷ দেশের সর্ববৃহৎ টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল-ছর আর্থিক দৈন্যতা কাটাতে কর্মীদের স্বেচ্ছাবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ এতে বাদ যাবে না ত্রিপুরাও৷ সারা দেশে প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কর্মী বিএসএনএল-এ কর্মরত রয়েছেন৷ তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৪ হাজার ৪৭১ জন স্বেচ্ছাবসরে যাওয়ার জন্য যোগ্য৷ শুধু তা-ই নয়, এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৯১৭ জন স্বেচ্ছাবসরে যেতে আবেদন জানিয়েছেন৷ অবশ্য, কর্মীদের যে কোনও ধরনের লোকসান এড়ানোর সবর্োত প্রয়াস নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ এ-ক্ষেত্রে বিএসএনএল কর্মীরাও খুব একটা অসন্তুষ্ট নন৷ কারণ, স্বেচ্ছাবসরে যে স্কিম এনেছে কেন্দ্র, এতে কর্মীদের লোকসানের বিষয়টি এড়ানো গেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এদিকে, ত্রিপুরায় প্রায় ১৭৯ জন এমন কর্মী রয়েছেন যাঁদের বয়স পঞ্চাশোর্ধ৷ তাঁদের স্বেচ্ছাবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে৷ এখন পর্যন্ত ১৩৫ জন স্বেচ্ছাবসরে যাওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন৷


২০০০ সালের ১ অক্টোবর যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশের সর্ববৃহৎ টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল-এর৷ দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ ওই সংস্থা আর্থিক দৈন্যতায় ভুগছে৷ প্রতিযোগিতার বাজারে বেসরকারি টেলিকম সংস্থার সাথে কোনওভাবেই পেরে উঠতে পারছে না বিএসএনএল৷ স্বাভাবিকভাবেই লোকসানে চলা একটি সংস্থাকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার৷ তাতে, প্রথমেই এমটিএনএল এবং বিএসএনএল-এর সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে লোকসান কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়৷ কিন্তু, তাতেও লাভের মুখ দেখার কোনও হিসাব মিলছিল না৷ তাই, কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএনএল-এর কর্মীদের স্বেচ্ছাবসরে পাঠাতে৷ এই প্রক্রিয়া শুরু করার আগে বিএসএনএল কর্মীদের সমস্ত সংগঠনের সাথে স্ববিস্তারে আলোচনা করে সরকার৷ সাথে স্বেচ্ছাবসরের একটি স্কিম তৈরি করে কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রক৷ ওই স্কিমে স্বেচ্ছাবসর গ্রহণকারী সমস্ত কর্মীর আর্থিক বিষয়ের প্রতি পুরো খেয়াল রাখা হয়েছে৷ এতে দেখা গেছে, বিএসএনএল কর্মীরা স্বেচ্ছাবসরে গেলেও তাঁদের আর্থিক লোকসান খুব একটা হচ্ছে না৷ ফলে কর্মী সংগঠনগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে সহমত পোষণ করে এবং স্বেচ্ছাবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে আসে৷


স্বেচ্ছাবসর স্কিম অনুযায়ী, ৫০ বা পঞ্চাশোর্ধ বিএসএনএল কর্মীদের জন্য ৪ নভেম্বর থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ আবেদন জানানোর অন্তিম দিন ও ক্ষণ ধার্য করা হয়েছে ৩ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত৷ স্কিম মোতাবেক ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত যাঁদের বয়স ৫০ বা এর ঊধর্ে হবে তাঁরাই স্বেচ্ছাবসরের আবেদন জানাতে পারবেন৷


কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি একসাথে বিএসএনএল কর্মীদের স্বেচ্ছাবসরে পাঠানো হবে৷ সারা দেশে বিএসএনএল-এর কপর্োরেট অফিস-সহ ২৭টি সার্কল এবং বিভিন্ন অপারেশন অফিস মিলিয়ে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৪৭১ জন স্বেচ্ছাবসরে যাওয়ার জন্য যোগ্য৷ তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৯১৭ জন স্বেচ্ছাবসরে যাওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন৷ বিএসএনএল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গ্রুপ-এ ৫,৬৬১ জনের মধ্যে ৪,১৩১ জন, গ্রুপ-বি ১১,৯৭১ জনের মধ্যে ৮,.৮১৯ জন, গ্রুপ-সি ৭১,০০৭ জনের মধ্যে ৫৫,৭০৭ জন, গ্রুপ-ডি ১৫,৩০২ জনের মধ্যে ৯,৯১৯ জন এবং ইন্টারনাল ওয়ার্কার ৫৩০ জনের মধ্যে ৩৪১ এখন পর্যন্ত স্বেচ্ছাবসরের আবেদন জানিয়েছেন৷ ত্রিপুরায় গ্রুপ-এ ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জন, গ্রুপ-বি ২০ জনের মধ্যে ১৬ জন, গ্রুপ-সি ৯৬ জনের মধ্যে ৭২ জন এবং গ্রুপ-ডি ৪৫ জনের মধ্যে ৩৩ জন এখন পর্যন্ত স্বেচ্ছাবসরের আবেদন জানিয়েছেন৷


কেন্দ্রীয় সরকার বিএসএনএল-কে নিয়ে এই সাহসী পদক্ষেপের কী প্রয়োজন পড়ল সেই প্রশ্ণ উড়িয়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই৷ তবে, বিএসএনএল-এর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের উদাসীনতা, আধিকারিকদের গাফিলতি এবং কর্মীদের কাজের প্রতি অবহেলা আজ বিএসএনএল-কে ধবংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে৷ অবশ্য ২০১৪ সালে কেন্দ্রে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর বিএসএনএল-কে চাঙ্গা করার একাধিক প্রয়াস নেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছরে বিএসএনএল-কে যেভাবে ঘূণ ধরেছে, তাকে সজীব করার কোনও উপায় খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি৷ পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে, হয়ত বিএসএনএল-কে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার৷ খুব শীঘ্রই, কেন্দ্রীয় সরকার এমনই সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না বলে বিএসএনএল-এর কর্মীরাই বলছেন৷ তবে বিএসএনএল কর্মীদের ধারণা, কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে সংস্থাটি আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে৷


অবশ্য আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএসএনএল-এ বিরাট কর্মীস্বল্পতা দেখা দেবে৷ সে-ক্ষেত্রে আধিকারিকদের বদলি করে এবং প্রত্যেক কর্মীদের কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে ওই শূন্য স্থান পূরণ করা হবে৷ ত্রিপুরায়ও বিএসএনএল-এ কর্মী স্বল্পতা দেখা দেবে৷ একই প্রক্রিয়া ত্রিপুরায়ও অবলম্বন করা হবে৷ তবে, লাইনম্যানরা ঠিকাদারের অধীনে কাজ করবেন৷ আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে ঠিকেদারের অধীনে আরও লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে৷ ফলে, পরিষেবায় কোনও ত্রুটি হবে না বলে দাবি বিএসএনএল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের৷

Releated Posts

শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই

নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…

ByByNews Desk Jun 2, 2026

অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ

নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…

ByByNews Desk May 27, 2026

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের

কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…

ByByNews Desk May 22, 2026

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…

ByByReshmi Debnath May 20, 2026
Scroll to Top