নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ এপ্রিল৷৷ রাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ মহারাজা বীরবিক্রম মহাবিদ্যালয় এবং বীরবিক্রম মেমোরিয়াল মহাবিদ্যালয়ের প্রথম

সেমিস্টারের ফলাফল নিয়ে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে৷ পথ অবরোধ করে প্রকাশিত ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা৷ রাজ্যের পূর্বতন সরকার মহারাজা বীরবিক্রম মহাবিদ্যালয়ের চত্বরেই নতুন রাজ্যস্তরীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছিল৷ মহরাজা বীরবিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়রে আয়ু সবেমাত্র এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে৷ এই অবস্থাতেই ইতোপূর্বে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মহাবিদ্যালয়গুলিকে তৎকালীন সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসে৷
পরিকাঠামোহীন রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম থেকেই অনেক জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়৷ ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, এ বছর বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা নিয়ে শুরুতেই সমস্যা দেখা দেয়৷ পাঠ্যসূচিতে নেই এমন বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষার প্রশ্ণপত্রে চলে আসে৷ এ নিয়ে অসন্তোষ ছিল৷ ফলাফল ঘোষণার পর অনিয়ম এবং ত্রুটি আরও স্পষ্ট হয়ে যায়৷ ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী মর্যাদাপূর্ণ মহারাজা বীরবিক্রম মহাবিদ্যালয় এবং বীরবিক্রম মেমোরিয়াল মহাবিদ্যালয়ে অকৃতকার্যদের হার যথাক্রমে ৯০ এবং ৯৫ শতাংশে এসে দাঁড়ায়৷ যাঁরা পাশ করেছেন তাঁদের কারোর প্রাপ্ত নম্বর ৪০ শতাংশের উপরে নেই৷ মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিমত, মার্কশিটে ত্রুটি হয়েছে৷ ত্রুটি সারাইয়েরজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবেদন জানানো যেতে পারে৷
অন্যদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, প্রশ্ণপত্র অনভিপ্রেত হলেও ফলাফল এতটা খারাপ হওয়ার কথা ছিল না৷ অনার্স এবং পার্স কোর্সে সকলেরই একই অবস্থা৷ কোনওভাবেই বিষয়গুলি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না৷ ছাত্রছাত্রীরা ক্ষোভে মহাবিদ্যালয় তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাওয়ার পথ অবরুদ্ধ করে দিয়েছেন৷
আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অর্পিতা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাদের নানাভাবে এখন শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ বলা হচ্ছে পাশ করিয়ে দেওয়া হবে৷ কিন্তু ৪০ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করলে তা আগামীদিনে কোনও কাজেই আসবে না৷ এভাবে গড়ে পাশ করিয়ে দেওয়া বা ফেল করিয়ে দেওয়ার পেছনে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য কাজ করছে৷ দেখা গেছে ইংরেজিতে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়ার যোগ্য ছাত্রছাত্রীরা কেউ দশ আবার কেউ একও পেয়েছেন৷ পরীক্ষায় বসে তিন ঘন্টায় তারা কী লিখেছেন তা নিয়েও প্রশ্ণ থাকছে৷ আবার ইনটার্নেলে ১৯ প্রাপ্ত নম্বর কেন সে ক্ষেত্রে যুক্ত হল না তার উপযুক্ত জবাবও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে৷
বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন৷ তাঁরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন৷
এদিকে, ফলাফল নিয়ে যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এসএফআই ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী ও টিএসইউ কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলী৷ সংগঠদ্বয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল এমবিবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করা হয়৷ ফলাফল প্রকাশে দেখা যায় যে এক বিরাট সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী দ্বিতীয় সেমিস্টারে উঠলেও তাদের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাক (ফেল) রয়েছে৷ এই ফলাফল নিশ্চিত ভাবেই আশানুরূপ নয়৷
আমরা ভারতের ছাত্র ফেডারেশন ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমন্ডলী ও উপজাতি ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলী এমবিবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফলের কোন জায়গায় কর্তৃপক্ষের ক্রটি, দুর্বলতা আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার দাবী জানাচ্ছি৷ পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরা যদি তাদের উত্তরপত্র রিভিউ করতে চায় তাহলে অবশ্যই যেন তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয় সেই দাবীও জানাচ্ছি৷
তাছাড়া আমরা ছাত্র ছাত্রীদের নিকট আবেদন রাখব তারা যেন তাদের ফলাফলের বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট যুক্তিসঙ্গত দাবী নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তারপর প্রয়োজনে আন্দোলনের পথ বেছে নেয়৷ কোন হটকারী কিংবা উশৃঙ্খল আন্দোলনে যেন তারা না যায় সেই আশাও ছাত্রী ছাত্রীদের কাছে রাখছি৷

