৷৷ সায়ন্তক চৌধুরী৷৷
কেউ কথা শোনে না৷ এরই মাঝে কেটে গেল ২৬ দিন৷ সময়ের নিরিখে খুব কম হলেও না শোনার রেওয়াজটা কিন্তু এখনো রয়ে গেছে৷ তিনি কিন্তু চাইছেন এই রেওয়াজটা ভাঙতে৷ এমন ভাঙার জন্য সময়টা যথেষ্ট নয়৷ কিন্তু সূচনা হওয়া উচিত ছিল৷ কেননা, যার কথা কেউ শোনে না তিনি কিন্তু
হেজিপেজি কেউ নন৷ তিনি রাজ্যের প্রবল ক্ষমতাধর ব্যক্তি৷ মাত্র দুই বছর নয় মাসে তিনি রাজ্যের আশা ভরসার একমাত্র প্রতীক৷ তিনি হলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ পট পরিবর্তনের সুবাদে বিজেপি বর্তমানে রাজ্যের মসনদে৷ দুই বছর নয় মাসের কঠোর পরিশ্রমের সুফল পেলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লববাবু৷ আট মার্চ শপথ গ্রহণের পর তিনি নেমে পড়েন খলিফা হারুন উর রশিদের মত আম জনতার সুখ দুঃখ নিজ চোখে অবলোকন করতে৷ তাইতো রাজ্যবাসী প্রথম দেখলো মুখ্যমন্ত্রীকে পাহাড়ের চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে ভূমিপুত্রদের কাছে যেতে৷ রাজ্যে এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী পেলেন যিনি সেলফি তুলতে কোন বাছ বিচার করেন না৷ প্রতিদিন তিনি ঘুরছেন৷ সরকারী কর্মচারীদের কর্ম সংসৃকতি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন৷ বলছেন দিনের কাজ দিনে করার জন্য৷ মুখ্যমন্ত্রী সচেতন রাজধানীর বানভাসির বিষয়ে৷ তাইতো তিনি চাইছেন আসছে বর্ষায় যেন রাজধানী বানভাসির রূপ না নেয়৷ তিনি দেখেছেন হাওড়া নদীর দুর্গতি৷ তিনটি স্থানে বাঁধ নির্মাণের কথা বলেছেন৷ কাঁটাখাল সংস্কারের বিষয়েও তিনি সতর্ক৷ এবং সর্বোপরি তিনি বুঝতে পেরেছেন বানভাসির প্রধান কারণ হল রাজধানীনর নর্দমাগুলি৷ কাঁটাখালেরও সংস্কার প্রয়োজন৷ কিন্তু, বর্ষার আর বেশি দেরী নেই৷ তাইতো শংকা জাগে নতুন মুখ্যমন্ত্রী রাজধানী বানভাসি অবস্থা কতটুকু ঠেকাতে পারবেন৷ শহরের বিভিন্ন নর্দমা পরিস্কার করার ক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, প্রতিদিন নর্দমার নোংরা আবর্জনা তুলে তা নর্দমার পাশে রাস্তায় জমা করে না রেখে সাথে সাথে ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যেতে হবে৷ কিন্তু, কেউ তার কখা শুনছে না৷ পঁচিশ বছরের কর্ম সংসৃকতি কি ২৬ দিনে ভোলা যায়? তাইতো পুর নিগমের সাফাই কর্মীরা নর্দমা থেকে আবর্জনা তুলে রাস্তার পাশে রেখে দিচ্ছেন৷ কিন্তু, নিগমের আবর্জনার গাড়ি করে সেইগুলি ডাম্পিং স্টেশনে নেবার কোনও তোড়জোর নেই৷ থক্থকে নোংরা আবর্জনা রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে৷ যানবাহন যাবার সময় পথচারীদের গায়ে ওই আবর্জনা ছিটকে পড়ছে৷ কিংবা সৌভাগ্যক্রমে বৃষ্টি এলে ওই আবর্জনা আবার সুড়সুড় করে নর্দমায় ঠাঁই নিচ্ছে৷ এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ যেন বাতাসে ভাসছে৷ পুরবাসী তার সুফল পাচ্ছে না৷ এতো গেল পুর নিগমের চিত্র৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পুর নিগমেও যেন পঁচিশ বছরের কর্ম সংসৃকতিতে যেন বন্দি হয়ে আছে৷ দিনের কাজ দিনে শেষ করার তাড়া নিগমের সাফাই কর্মীরাও উপেক্ষা করছে৷ এবং এটাও সত্যি যে, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে আজও দিনের কাজ দিনে শেষ করার তেমন তাড়া দেখা যাচ্ছে না৷ মুখ্যমন্ত্রী যতটুকু তাড়া দিচ্ছেন তার সিকি ভাগও কর্মচারীদের মাঝে দেখা যাচ্ছে না৷ তাদের ভাবখানা এমন যে, এত তাড়ার কি আছে৷ ধীরে সুস্থে হোক না কাজ৷ নতুন মুখ্যমন্ত্রী এই অচলায়ন ভাঙতে চাইছেন৷ এ ভাঙার জন্য কর্মচারীদের জং ধরা মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে৷ এই পরিবর্তন কবে আসবে সেই সময়ের অপেক্ষায় রাজ্যবাসী৷ আসতে হবে দুরন্ত গতিতে কাজ করার মানসিকতা৷ তা না হলে বলতে হবে— কাজের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী আন্তরিক হলেও কেউ কথা শোনে না৷ তবে কি এর জন্য দাবড়ানির তরিকা প্রয়োজন? অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এক শ্রেণীর কর্মচারী যেন তাই চাইছেন?

