নিজস্ব প্রতনিধি, আগরতলা, ৩ এপ্রিল৷৷ রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে কর্মসংসৃকতির হাল ফেরাতে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে৷ সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়া এবং তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি থাকবে৷ খোদ মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিষয়টির তত্ত্বাবধান করবেন৷ চলতি মাসেই তা কার্যকর হচ্ছে৷ ক্রমান্বয়ে প্রত্যেকটি জেলায় তা বাস্তবায়ন করা হবে৷ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এই নজরদারী চালাবে রাজ্য সরকার৷
নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় কর্মচারীদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার বিষয়টি লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়৷ কিন্তু পরবর্তী সময় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রাজ্য সরকার এবিষয় থেকে পিছিয়ে আসে৷ কারণ বায়েমেট্রিক ব্যবস্থাকেও নানাভাবে প্রভাবিত করা যায় বলে প্রমাণ মিলেছে৷ তাই রাজ্য সরকার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷ এই অবস্থায় রাজ্য সরকার উচ্চ প্রযুক্তির ডিজিট্যাল নেটওয়ার্ক সিস্টেম চালু করতে চলেছে৷ তাতে কর্মচারীদের দৈনিক হাজিরার পুঙ্খনাপুঙ্খ তথ্য নথিভুক্ত হবে৷
এই সিস্টেমে আধিকারিক ও কর্মীদের অফিসে আসা-যাওয়া এবং কাজে থাকা না-থাকার সমস্ত বিষয়গুলি সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম৷ আর এই বিষয়টি আধিকারিকদের সকল স্তরের কর্মচারীদের সেলারি বিলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে৷ যাঁরা কার্যালয়ের বাইরে ফিল্ডে কাজ করেন তাঁরাও এই উচ্চ প্রযুক্তির ডিজিটাল নেটওয়ার্কের ব্যবস্থার মধ্যে আসবেন৷
মহাকরণ সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী চাইলে যে কোনও সময় রাজ্যের কর্মচারী ও আধিকারিকদের হালহকিকত তৎক্ষনাৎ জানতে পারবেন৷ মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে একটি বিশেষ ট্যাব বসবে৷ এই ট্যাবের মাধ্যমে কর্মচারী এবং আধিকারিকদের কাছে থাকা ফাইল এবং কতদিন ধরে কোন ফাইল কী কারণে অচল হয়ে পরে আছে তাও জানা যাবে৷ খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করবেন এবং তাঁর নজরদারিতেই সরাসরি কাজ চলবে৷
চলতি মাসে এই আধুনিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়ে যাবে৷ তবে সব জেলায় একই সঙ্গে তা করা যাবে না বলে সূত্রের খবর৷ কিন্তু পর্যায়ক্রমে আটটি জেলার জেলাশাসকের কার্যালয়, মহকুমা শাসকের কার্যালয় এবং বিডিওদের কার্যালয়কেও এর আওতায় আনা হবে৷ সচিবালয়ে শুরুতেই তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে৷
সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবা পেতে বিভিন্ন কার্যালয়ে এসে যেভাবে হয়রানির স্বীকার হতে হয় তা প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

