এডিসিতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের সমতা ফেরাতে কঠোর হচ্ছে দপ্তর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ এপ্রিল৷৷ ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদের (টিটিএএডিসি) অধীন সুকলগুলিতে পঠন-পাঠন লাটে উঠার পেছনে নিয়ম নীতির অবমাননা অন্যতম কারণ৷ তাই ছাত্র-শিক্ষক আনুপাতিক হারে সমতা ফেরাতে কঠোর হচ্ছে শিক্ষা দপ্তর৷ কারণ, রাজ্য সরকার ডেপুটেশনে এডিসি প্রশাসনকে শিক্ষক দিলেও, সুকলগুলিতে প্রয়োজন অনুসারে সমতা বজায় রেখে তাঁদের নিয়োগ করা হয়নি৷ সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার এডিসি’তে ডেপুটেশনে ৩২০৫ জন শিক্ষককে পাঠিয়েছে৷ অথচ, এমন অনেক সুকল রয়েছে যেখানে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেক বেশি৷ এমন ৮০টি সুকল চিহ্ণিত হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷

বর্তমানে রাজ্যে সুকলগুলিতে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত হল ২০:১৷ শিক্ষার অধিকার আইনের নির্দেশিকা মোতাবেক গড়ে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত হতে হবে ৩০:১৷ রাজ্যে এডিসি এলাকায় সুকলগুলিতে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ১০:১৷ সম্প্রতি শিক্ষা দপ্তর এডিসি এলাকার সুকলগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে কিনা, কিংবা শিক্ষকের সংখ্যা বেশি কিনা তা চিহ্ণিত করতে শুরু করেছে৷

সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার ৩২০৫ জন শিক্ষক ডেপুটেশনে পাঠিয়েছে এডিসিতে৷ প্রাথমিকস্তরে ২৫৪৪ জন এবং উচ্চ বুনিয়াদীস্তরে ৬৬১ জন ডেপুটেশনে রয়েছেন৷ কিন্তু, তাদের আনুপাতিক হারে নিযুক্ত করেনি এডিসি প্রশাসন৷ শিক্ষা দফতর সূত্রের বক্তব্য, প্রভাব খাটিয়ে অনেক শিক্ষক – শিক্ষিকাই নিজেদের পছন্দ মতো সুকল বাঁছাই করেছেন৷ সেখানে তাদের নিযুক্তি হয়েছে৷ ফলে, ছাত্র-শিক্ষকের আনুপাতিক হার নিয়ে সমস্যা বজায় রয়েছে৷

সূত্রে খবর, রামকৃষ্ণ পাড়া জে বি সুকলে ছাত্র-শিক্ষকের আনুপাতিক হার ৭:৭৷ এদিকে সিপাহীপাড়ায় টিংটাং বাড়ি জে বি সুকলে ছাত্র – শিক্ষকের অনুপাত ১০:১৬৷ সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো সুনারাম পাড়ায় সাঁচিয়া বাড়ি আশ্রম সুকলের অবস্থা৷ সেখানে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ৫০:১৷ অথচ বলরাম চৌধুরী পাড়া জে বি সুকলের ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ৫,৪৷ তেমনি পূর্ব রামনগর জে বি সুকলের ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ২৪:১৮ এবং গঙ্গাধন চৌধুরী পাড়ায় শিবদূর্গা চৌধুরী সুকলের ছাত্র- শিক্ষকের অনুপাত ২০:১৪৷ বোধজংনগরে দেবতাবাড়ি জে বি সুকলেও ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ১৯:১৩৷ অথচ সুবলসিংয়ে মোহনবাড়ি আশ্রম সুকলে ছাত্র – শিক্ষকের অনুপাত ৫০:৩৷

তাতে দেখা গেছে, দুরবর্তী স্থানের সুকলগুলিতে ছাত্র-ছাত্রদের তুলনায় শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা কম৷ অথচ আগরতলা থেকে সল্প দূরুত্বে এডিসি এলাকাতে অবস্থিত সুকলগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় আনুপাতিক হারে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংখ্যা বেশি৷ সূত্রে খবর, এডিসিতে ডেপুটেশনে পাঠানো অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আগরতলার বাসিন্দা৷ ফলে, প্রভাব খাঁটিয়ে পছন্দ সহি সুকলগুলিকেই তাঁরা বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷

শিক্ষা দফতরের বক্তব্য, রাজ্য সরকার এডিসিকে ডেপুটেশনে যত শিক্ষক-শিক্ষিকা দিয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনলে এডিসিতে শিক্ষক সংখ্যক দেখা দেবে৷ ফলে, এডিসিতে সুকলগুলিতে ছাত্র-শিক্ষক সমতা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে শিক্ষা দফতর৷ সূত্রের খবর, বুনিয়াদি শিক্ষা দফতর, বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর এবং এডিসির শিক্ষা দফতরের কার্যনির্বাহী সদস্যকে নিয়ে শীঘ্রই এই সমস্যা সমাধানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে৷ সমতা ফেরাতে কি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন আলোচনা ক্রমে তা স্থির করা হবে৷ শিক্ষা দফতরের বক্তব্য, উপজাতি অধুশিত এলাকায় সুকলগুলিতে পঠন-পাঠন লাটে তোলার পিছনে এডিসি প্রশাসন সম্পূর্ণ রূপে দায়ি৷