প্রয়াত সমবায় মন্ত্রী খগেন্দ্র জমাতিয়া, শোক প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ২ মার্চ (হি.স.) : প্রয়াত হলেন ত্রিপুরার বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য বর্ষীয়ান জনজাতি নেতা খগেন্দ্র জমাতিয়া | মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর| মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা-সহ অনেক গুণমুগ্ধ ব্যক্তি ও বন্ধুবান্ধব রেখে গেছেন।
সতীর্থ মন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন ধর, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি-র প্রদেশ সভাপতি বিপ্লবকুমার দেব প্রমুখ। রবিবার দিল্লি থেকে তাঁর মরদেহ আগরতলায় এসে পৌঁছবে।
১৯৮৮ সাল থেকে টানা বিধানসভার সদস্য খগেন্দ্র জমাতিয়া, এবারের নির্বাচনেও কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী ছিলেন। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি মানিক সরকার পরিচালিত বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সমবায় দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। কিছুদিন বন দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন। বর্তমানে তিনি সমবায় ও মৎস্য দফতরের মন্ত্রী।
তিনি ছিলেন সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্য এবং ত্রিপুরা উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এক সময় তিনি সশস্ত্র জঙ্গি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন টিআরএ-র সদস্যদের নিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন ও জাতীয় জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসেন। প্রায় একই সময়ে ১৯৮৩ সালে তিনি সিপিআইএমে যোগ দেন এবং রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেন।
তাঁর ব্যক্তিজীবনে কমিউনিস্ট ভাবধারার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন ঘটে। জীবনযাপন ছিল খুবই সহজ-সরল। নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। তবুও পার্টি তাঁকে পুনরায় প্রার্থী করে। কিন্তু প্রচার চলাকালীন সময়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে জিবি হাসপাতালের অইসিইউতে রাখা হয়। সে সময় তাঁর প্রতিপক্ষীয় বিজেপি প্রার্থী দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ অতুল দেববর্মা তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে দ্রুত দিল্লির এইমস হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার পর তাঁকে দিল্লিতে পাঠানো হয়।
শুক্রবার দিল্লির এইমস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বর্যীয়ান বামনেতা জামাতিয়া| আগরতলায় ইতিপূর্বে তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ প্রদীপ ভৌমিক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মধুমেহ রোগে ভুগছিলেন। যা তাঁর লিভার, যকৃত, অগ্নাশয়-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোতে প্রভাব ফেলতে থাকে। কিন্তু এইমসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর কর্কট রোগ ধরা পড়ে। রক্তেই এর প্রভাব ছিল। এই রোগের চিকিৎসাই শুরু করা যায়নি। এর আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক তথা বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন ধর বলেন, এত তাড়াতাড়ি এমনটা হবে ভাবা যায়নি। ত্রিপুরার গণআন্দোলনের নেতার প্রয়াণে পার্টি নেতৃত্ব শোক স্তব্ধ। পার্টির পতাকা তিন দিন অর্ধনমিত থাকবে। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি বিপ্লবকুমার দেব বলেন, রাজ্য এক জনদরদি নেতাকে হারাল। তিনি প্রয়াতের আত্মার সদগতি কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তাঁর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, শনিবার ভোট গণনা। কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি জয়ী হলে উপনির্বাচন হবে। বিরোধী পক্ষ জয়ী হলে এ ধরনের কোনও সমস্যা দেখা দেবে না। এ নিয়ে সিপিআইএম-র দুই প্রার্থী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে মারা গেলেন। এর আগে চড়িলাম বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী মারা যান। ফলে সেখানে ভোট গ্রহণ করা হয়নি।