১৫-৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে ৫৪.৫ শতাংশ এনিমিয়ায় আক্রান্ত, বাল্যবিবাহ বন্ধে রাজ্যের ব্যর্থতা প্রকাশ্যে আসল জাতীয় সমীক্ষায়

Child Marriage Campaignনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ ফেব্রুয়ারী৷৷ নারীদের অধিকার রক্ষায় রাজ্য সরকারের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ মিলেছে জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা রিপোর্টে৷ রিপোর্টে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাল্যবিবাহ বন্ধে রাজ্য সরকারের সফলতা নেই বললেই চলে৷ রিপোর্ট মোতাবেক, রাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সের নাবালিকাদের বিবাহের হার ৩২.২ শতাংশ৷ শুধু তাই নয়, ১৮ বছরের কম বয়সে মাতৃত্বের হার ১৮.৮ শতাংশ৷ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সের নাবালিকাদের বিবাহ হয়েছে শহর এলাকায় ২৫.৬ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩৪.৮ শতাংশ৷ ২০০৫-০৬ সালে জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা রিপোর্টে বাল্যবিবাহের হার আরও উদ্বেগজনক ছিল৷ তখন ১৮ বছরের কম বয়সের নাবালিকাদের বিবাহের হার ছিল ৪১ শতাংশ৷

এদিকে, ২০১৫-১৬ সালের সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সমীক্ষা চলাকালীন গর্ভবতী হয়েছেন কিংবা সন্তান জন্ম দিয়েছেন এমন মহিলাদের বয়স ১৫-১৯ বছরের মধ্যে তার হার শহর এলাকায় ১৩.৩ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় ২০.৭ শতাংশ৷ যার গড় হার ১৮.৮ শতাংশ৷ ২০০৫-০৬ সালের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তখন এর হার ছিল ১৮.৫ শতাংশ৷ তাতে প্রমাণিত, ২০০৫-০৬ সালের সমীক্ষার তুলনায় ২০১৫-১৬ সালের সমীক্ষায় ১৮ বছরের কম বয়সে গর্ভবতী হয়েছেন কিংবা সন্তান জন্ম দিয়েছেন এমন মহিলার সংখ্যা ০.৩ শতাংশ বেড়েছে৷

পুরুষদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহেও কলঙ্কিত হয়েছে রাজ্য৷ ২০১৫-১৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী ২১ বছরের কম বয়সের ছেলেদের বিবাহের গড় হার ২২.২ শতাংশ৷ শহর এলাকায় এই হার ৯.৬ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় ২৫.৮ শতাংশ৷ ২০০৫-০৬ সালের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ছেলেদের বাল্যবিবাহের গড় হার ছিল ১৮.৯ শতাংশ৷ নতুন সমীক্ষায় প্রমাণিত, ছেলেদেরও বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে শতকরা হার বেড়ে চলেছে৷

মূলত, এই বিষয়গুলি সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধীন৷ বাল্যবিবাহ রোধ নিয়ে দেশব্যাপী কর্মসূচী পালন করা হলেও রাজ্যে এর সফলতা প্রশ্ণের মুখে৷ পরিণত বয়সের আগেই মাতৃত্বের কারণে সন্তান ও মায়েদের নানাহ সমস্যা হচ্ছে৷ শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক কালে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিণত বয়সের আগেই বিবাহকেই দায়ি করা হচ্ছে৷ বৈবাহিক জীবনের সারমর্ম বুঝে ওঠার বয়সের আগেই বিবাহের পরিণাম সুখকর হচ্ছে না বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷ রাজ্য সরকারের দাবি, নারীদের অধিকার রক্ষায় কোন ঘাটতি নেই৷ অথচ জাতীয় সমীক্ষায় বাল্যবিবাহে রাজ্যের রিপোর্ট কার্ড প্রশংসনীয় নয়৷ বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যধি হিসেবে পরিচিত৷ নারীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের উন্নতিতে বাল্যবিবাহ বিরাট ফারাক গড়ে দেয় তা ইতিপূর্বে প্রমাণিত৷ এজন্যই দেশজুড়ে বাল্যবিবাহ বন্ধের দিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়৷ জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষার তথ্য এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারকে কালিমালিপ্ত করেছে৷

এদিকে, রাজ্যে নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সাথে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ণ উঠেছে সমীক্ষায়৷ জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা ২০১৫-১৬ অনুযায়ী ৬-৩৫ মাস বয়সের শিশুরা এনিমিয়ায় আক্রান্তের হার ৪৮.৩ শতাংশ৷ অন্যদিকে ১৫-৪৯ বছর বয়সী গর্ভবতী মহিলারা এনিমিয়ায় আক্রান্তের হার ৫৪.৪ শতাংশ৷ গর্ভবতী নন এমন ১৫-৪৯ বছর বয়সী মহিলারা এনিমিয়ায় আক্রান্তের হার ৫৪.৫ শতাংশ৷ রাজ্যে পুরুষদের তুলনায় মহিলারাই সর্বাধিক এনিমিয়ায় আক্রান্ত৷ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৫-৪৯ বছর বয়সী পুরুষদের এনিমিয়ায় আক্রান্তের হার ২৪.৭ শতাংশ৷ তাতে, এই সমীক্ষা অনুযায়ী নিশ্চিত রাজ্যের মহিলারা এবং শিশুরা শারীরিক দিক দিয়ে সুরক্ষিত নন৷ এনিমিয়া একটি মারাত্মক ব্যধি৷ এর কারণে নানাহ সমস্যা হয়৷ আর এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্যর্থতাই ফুটে উঠেছে৷