অসমের ৮টি জেলার প্রায় ৩০০ গ্রাম প্লাবিত, বন্যাক্রান্ত প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার লোক বন্যাক্রান্ত

assam mapগুয়াহাটি, ০৭ জুলাই, (হি.স.) : বন্যার কবলে উজান ও মধ্য অসমের আট জেলার প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার মানুষ। তিনসুকিয়া, লখিমপুর, শোণিতপুর, শিবসাগর, যোরহাট, গোলাঘাট, বিশ্বনাথ ও চরাইদেও জেলার প্রায় তিনশো গ্রাম এই মুহূর্তে জলমগ্ন। ব্রহ্মপুত্র ও তার বেশ কয়টি উপনদীর জলস্তর দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নিমাতিঘাট, তেজপুর ও ধুবড়ির বিভিন্ন নদী। ঘরবাড়ি ছেড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী শিবির-সহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যা দুর্গতদের জন্য প্রশাসনের উদ্যোগেও ৫০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে বলে সরাকারি সূত্রের দাবি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাবাবিক হবে এমন কোনও সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। কেননা, প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয় ও মিজোরামে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে প্রবল বৃষ্টিপাত।
রেহাই পায়নি কাজিরঙা জাতীয় উদ্যান, পবিতরা অভয়ারণ্যও। কাজিরঙা উদ্যানের ষষ্ঠ সংযোজন প্লাবিত। কাজিরঙার মোনাবাড়ি, বিহালি, রাংচালি, গহপুর থেকে পানপুর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের জলপৃষ্ঠ ব্যাপক বেড়েছে। ফলে বিপন্ন হয়ে পড়েছে বন্যপ্রাণী। প্রাণ রক্ষার তাগিদে সংশ্লিষ্ট এলাকার ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ওঠে আসছে হাতি-সহ অন্যান্য বুনোজন্তুরা। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে শয়ে শয়ে শূকর, হাতি, গন্ডার, হরিণ প্রভৃতি পশুকুল। জাতীয় সড়ক পার হয়ে তারা ছুটে চলেছে পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলা কারবি আংলঙের উঁচু জায়গার সন্ধানে। জলের নীচে ডুবে গেছে কাজিরঙার ৩৬টি ফরেস্ট ক্যাম্পও।
মরিগাঁও জেলার মায়ং অঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ওখানকার এক শৃঙ্গ গন্ডারের বিচরণভূমি অভয়ারণ্যও জলমগ্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে পবিতরার প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা বন্যাক্রান্ত। বিভিন্ন জীবজন্তু উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।