প্রণব সরকার
ত্রিপুরায় আধুনিক সাংবাদিকতার জনক ছিলেন প্রয়াত ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক। একবিংশ শতাব্দীতে ইন্টারনেট থেকে শুরু করে ওয়েব পোর্টাল বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যম সহ সংবাদপত্রের আধুনিকতার ছোঁয়া যে আসতে বাধ্য তা বুঝতে পেরেছিলেন প্রয়াত ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক। মূলত তাঁরই হাত ধরে ত্রিপুরায় শুরু হয়েছিল মিডিয়ার আধুনিকীকরণের কাজ। মুদ্রণে আধুনিকীকরণ সহ সংবাদপত্রে পেশাদারিত্ব প্রথম ত্রিপুরায় আনা হয়েছিল তারই হাত ধরে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন ত্রিপুরার মিডিয়া একদিন আধুনিকতার গণ্ডি পেরিয়ে গোটা দেশ, গোটা বিশ্বের সাথে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবেন। ১৯৯৭ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর স্বপ্নকে অপূর্ণ রেখে চলে গেছেন ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক। প্রয়াত হওয়ার পর ত্রিপুরার সংবাদপত্রে নতুন আরেকটি যুগের সূচনা হয়। যেই যুগে নেই ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক। কিন্তু রয়েছে তাঁর স্বপ্ন। শুরু হয়েছে তাঁরই হাত ধরে আসা আধুনিক মিডিয়া। যে মিডিয়াকে গোটা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিতে হলে প্রয়োজন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক চাইতেন ত্রিপুরার নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকরা অত্যাধুনিক দক্ষতার সাথে সংগতি রেখেই সাংবাদিকতা করে যাক। মিডিয়া চলুক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। তারই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসলো তাঁরই গড়ে দেওয়া ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের আর্থিক সহায়তায় আগরতলা প্রেস ক্লাবে গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার। ট্রাস্টের সম্পূর্ণ আর্থিক সহায়তায় প্রথমবারের মতো আগরতলা প্রেস ক্লাবে গড়ে তোলা হচ্ছে এই মিডিয়া সেন্টার। যে মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমে সর্বক্ষণ বিনা খরচে সব অংশের সাংবাদিকরা একদিকে যেমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে দ্রুততার সাথে সংবাদ প্রেরণ করতে পারবেন অত্যন্ত মসৃণভাবে। দেশে এইভাবে সাংবাদিকদের বিনা খরচে সর্বক্ষণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংবাদ সরবরাহের সুযোগ করে দেওয়ার নজির খুব একটা নেই। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তো নেইই। আগরতলা প্রেস ক্লাবের প্রস্তাব মেনে সাথে সাথেই ট্রাস্টের বর্তমান পরিচালন কর্তৃপক্ষ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই মিডিয়া সেন্টার গড়ে দেওয়ার সম্মতি প্রকাশ করেন। যা আগামী রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন হতে চলেছে।
এই মিডিয়া সেন্টার গড়ে তোলার ফলে প্রয়াত ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিকের আরও একটি স্বপ্ন পূরণ করল ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমান ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষও যেভাবে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক সাংবাদিকতার জন্য এই মিডিয়া সেন্টার গড়ে দিয়েছে তা অসাধারণ উদ্যোগ। এই মিডিয়া সেন্টার গড়ে তোলার ফলে রাজ্যের সাংবাদিকরা যেমন একদিকে গোটা বিশ্বের সাথে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সাংবাদিকতার কাজ বিনা পয়সায় করে যেতে পারবেন, তেমনি প্রতিনিয়ত নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিরও সুযোগ থাকবে। যা চেয়েছিলেন প্রয়াত ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক। তিনিই ত্রিপুরার সাংবাদিকদের নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন তা অবশেষে পূরণ হতে চলেছে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন ত্রিপুরার সাংবাদিকরা জাতীয়স্তরের মর্যাদা লাভ করুক। আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে আরও এগিয়ে যাক ত্রিপুরার সংবাদ পত্র। এর জন্য বর্তমান ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ আগরতলা প্রেস ক্লাবের প্রস্তাব মেনে চালু করেছে সংবাদপত্রের জাতীয় পুরস্কার। সেই জাতীয় পুরস্কারে অংশ নিতে পারবেন দেশের সব অংশের সাংবাদিকরা। থাকবে দক্ষ বিচারকমণ্ডলী, পুরস্কারে অর্থমূল্য হিসেবে দেওয়া হবে এক লক্ষ টাকা। প্রয়াত ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিকের আরও একটি স্বপ্ন পূরণ করার ফলে রাজ্যের সাংবাদিকরা একই সাথে দেশের সাংবাদিকদের সাথে দক্ষতা ও মানোন্নয়নের প্রতিযোগিতা করতে পারবেন। যা দীর্ঘ সাংবাদিকতার জীবনে ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক বার বার করেছেন এবং সফলতাও পেয়েছেন। ভূপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক বলতেন সংবাদপত্র হলো মানুষের জন্য। আর এই কাজটা যারা করেন সাংবাদিকরা তাদের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ খুব প্রয়োজন। এর জন্যই তিনি আধুনিক মিডিয়ার স্বপ্ন দেখতেন। যে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে মৃত্যুর আগে তাঁর এই গড়ে দেওয়া ট্রাস্ট পরিচালন কর্তৃপক্ষের হাত ধরে। আগরতলা প্রেস ক্লাব চির কতৃজ্ঞ ট্রাস্টের কাছে। ত্রিপুরার সাংবাদিকদের মান, দক্ষতা ও আধুনিকতার বিকাশে এই মিডিয়া সেন্টার গড়ে দেওয়া, সময়োপযোগী সাহায্য ট্রাস্টের।
(লেখক আগরতলা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক)

