আগরতলা-আখাউড়া রেল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে চলতি বছরের শেষে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ জুন৷৷ আগরতলা- আখাউড়া রেল সংযোগ প্রকল্পটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার অনশুল গুপ্তা৷ তিনি জানান, এই প্রকল্পটি মিশন মোডে করা হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে যে এই বছরের আগস্টের শেষে নিশচিন্তপুর রেল ইয়ার্ডটি শেষ হয়ে যাবে৷ তিনি জানান, আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগের কাজ পিএসইউ ইরকন করছে এবং করোনা মহামারীর মধ্যেও কাজটি অব্যাহত রয়েছে৷ পিএসইউ ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্ধারিত লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পটি নিয়েছিল৷ তবে কাজের বিলম্বের কারণে প্রকল্পটি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷


কোভিড সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জুলাইয়ের মধ্যভাগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৭২ শতাংশ প্যাসেঞ্জার ট্রেন পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ আজ ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে এ-কথা জানিয়েছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার অনশুল গুপ্তা৷ সাথে তিনি যোগ করেন, করোনা অতিমারি পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলিকে সমস্ত সহায়তা করেছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে৷
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির বিস্তার প্রতিরোধের জন্য উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে রাজ্য সরকারগুলির স্বাস্থ্য সেবার প্রচেষ্টা পরিপূরক করতে সমস্ত ধরনের প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে৷ এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে কোভিভ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদ্যমান রেলওয়ে চিকিৎসালয়গুলি প্রস্তুত করে তোলা, কোভিড-১৯-এর প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রেখে চিকিৎসালয়গুলিতে অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা, কর্মচারীদের ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য ভ্যাকসিনেশন অভিযানের আয়োজন করা ইত্যাদি৷


কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে নিজেদের ৬-টি রেলওয়ে হাসপাতালে মোট ৩৫৪টি শয্যার ব্যবস্থা করেছে৷ প্রত্যেকটি স্পেশাল ওয়ার্ডে কোভিড পজিটিভ রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা আছে এবং এপ্রিল, ২০২১ থেকে এই হাসপাতালগুলিতে ১২৫০ এরও অধিক রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে৷ তাঁর দাবি, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭-টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ সমগ্র উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীনে ১৯টি ভ্যাকসিন সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে৷ উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ আরপিএফ এবং ৭২ শতাংশ হেল কেয়ার ওয়ার্কার ইতিমধ্যে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন৷ প্রায় ৬৪ শতাংশ অন্যান্য কর্মচারী নিজেদের প্রথম ডোজ নিয়েছেন৷


সাথে তিনি যোগ করেন, ভারতীয় রেলওয়ের পক্ষ থেকে জীবনদায়িনী সামগ্রীর দ্রুত চলাচলের লক্ষ্যে গ্রিন করিডোর তৈরি করে অক্সিজেন এক্সপ্রেস চালানো হয়েছে৷ প্রথম অক্সিজেন এক্সপ্রেসটি চলাচল করেছে ১৯ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে মুম্বাই থেকে ভাইজ্যাগের মধ্যে৷ ৪৪০টি অক্সিজেন এক্সপ্রেস ট্রেন ইতিমধ্যে নিজেদের যাত্রা সম্পূর্ণ করেছে এবং গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে ৩১,৭০৪ এমটি এলএমও বহন করেছে৷ ইতিমধ্যে ৭-টি অক্সিজেন এক্সপ্রেস অসমে ৫৬০ এমটি এলএমও বহন করে এনেছে৷
তিনি বলেন, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ২০২০-২১ বর্ষের সময়সীমার মধ্যে তার পূর্ব বছরের ৯,৭৩১টি পণ্য রেকের তুলনায় ১১,৬৫৯টি পণ্য রেক রিলিজ করেছে, যার বৃদ্ধি ২০ শতাংশ৷ বিগত বছরের ৭০৮টি পণ্য রেকের তুলনায় এ বছরের মে মাসে ১,১৩৫টি পণ্য রেক আনলোড করা হয়েছে, যার বৃদ্ধি ৬০.৩১ শতাংশ৷ জুন থেকে আজ পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রেনগুলির গড় গতি ঘণ্টা প্রতি ৩৬.১০ কিলোমিটারের তুলনায় ঘণ্টা প্রতি ৪৪.৫২ কিলোমিটার হয়েছে৷ গতিতে বৃদ্ধি ২৩.৩২ শতাংশ৷

তাঁর বক্তব্য, গুডস ট্র্যাফিক হ্যান্ডলিঙের জন্য ১৯টি নতুন স্টেশন খোলা হয়েছে, পার্সেল ট্যাফিক হ্যান্ডলিঙের জন্য ১২টি নতুন স্টেশন খোলা হয়েছে এবং অর্থনীতিতে সাহায্যের জন্য এবং লোডিং-আনলোডিঙে অন্তর্ভুক্ত করে শ্রমিকদের উপার্জন সৃষ্টি করতে ২৩টি ওডস শেডে ২৪৭ লোডিং-আনলোডিং ব্যবস্থার সুবিধা করা হয়েছে৷ অন্যান্য রেলওয়ে থেকে ৬৪টি অন্তর্মুখী রেলওয়ে সহ উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের পক্ষ থেকে ১০৩টি কিষাণ রেল চালানো হয়েছে৷ তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষকরা যাতে খুব সহজেই নিজেদের সামগ্রী ভারতের বৃহৎ বাজারগুলি ও বিদেশে প্রেরণ করতে পারে তার জন্য উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের পক্ষ থেকে সস্তা ও দ্রুত পরিবহণ সমাধান প্রদান করতে ৩৯টি কিষাণ রেল চালানো হয়েছে৷


এদিন তিনি জানান, কোভিড সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জুলাইয়ের মধ্যভাগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৭২ শতাংশ প্যাসেঞ্জার ট্রেন পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ তাঁর কথায়, বর্তমানে আমরা ৪৯ জোড়া স্পেশাল মেইল / এক্সপ্রেস ট্রেন এবং ৫ জোড়া লোকাল প্যাসেঞ্জার ট্রেন যাত্রার প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের জন্য প্রতিদিন চালাচ্ছি৷ আরও ২১ জোড়া স্পেশাল মেইল / এক্সপ্রেস ট্রেন চালানোর জন্য ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়েছে৷ ভারতীয় রেলওয়েতে গড় হিসেবে প্রত্যেকদিন ৮৮৯টি স্পেশাল মেইল / এক্সপ্রেস ট্রেন চালানো হচ্ছে৷ রাজ্য সরকারগুলির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে অদূর ভবিষ্যতে আরও ট্রেন চালানোর জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে৷
এদিকে, ভারতীয় রেলওয়েতে মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ করা সম্পর্কেও সংক্ষিপ্তভাবে বলেন তিনি৷ তাঁর কথায়, এটি ভারতীয় রেলওয়ের ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এক বৃহৎ পদ্ধতিতে বৃদ্ধি করবে এবং ট্রেন কলিশন অ্যাভয়ডেন্স সিস্টেম (টিসিএএস) ইত্যাদির মতো সর্বশেষ স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে রেলওয়েকে সক্রিয় করে তুলবে৷