নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ আগস্ট৷৷ আগরতলা বিমানবন্দরের রানওয়েকে আরও প্রসারিত করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ভারত সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতরে জমি চেয়েছেন, জানালেন নিজে৷ তিনি বলেন, আগরতলা বিমানবন্দর বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে কাছে৷ বড় বড় আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ উঠা-নামার জন্য আগরতলা বিমানবন্দরের রানওয়ের আরও লম্বা হওয়া প্রয়োজন৷

বর্তমানে বিমানবন্দরের যে রানওয়ে রয়েছে এতে বিমান উঠা-নামা করছে স্বাভাবিকভাবে, তবে বড় আকারের এয়ারবাস নামার জন্য আরও বড় রানওয়ের প্রয়োজন৷ তাই ভারত সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, রানওয়েকে আরও প্রসারিত করার জন্য যাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের দিক থেকে প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যায়৷ ভারত সরকার যেন বিমানবন্দরের জমি পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে, আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতে উভয়দেশ লাভবান হবে৷ বাংলাদেশের একটি বড় অংশের যাত্রী আগরতলা বিমানবন্দর ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন জায়গা-সহ বিদেশে যাতায়াত করেন, তাই তাদেরও সুবিধা হবে৷ বাংলাদেশ শুধু জমি দিলে তারা একটি তৈরি এয়ারপোর্ট পাবে৷ এর জন্য তাদের কোনও অর্থ খরচ করতে হবে না৷ আগরতলা বিমানবন্দরের মতো একটি বিমানবন্দর তৈরি করতে কমপক্ষে বাংলাদেশের ২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে৷
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কাছে ভারত-বাংলাদেশের এই মৈত্রী-সম্পর্ক উদাহরণ হয়ে থাকবে যে একটি বিমানবন্দর দুই দেশ মিলে চালাচ্ছে৷ এজন্য তিনি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন ভারত সরকারের কাছে৷ এখন ভারত ও বাংলাদেশ সরকার মিলে এ-বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে৷ এর আগে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, যেহেতু বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক যাত্রী আগরতলা বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন, তাই তাঁদেরকে অনেক ঘুরে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আগরতলায় আসতে হয়৷ তাই বাংলাদেশের দিকে একটি টার্মিনাল ভবন হলে তাঁরা সরাসরি নিজের দেশে গাড়ি করে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের কাছে আসতে পারবেন৷ টার্মিনাল ভবনেই ইমিগ্রেশন শেষ করে বোর্ডিং পাস নিয়ে বিমানে চড়তে পারবেন তাঁরা৷ এতে বাংলাদেশবাসীর সুবিধা হবে৷ এখন যদি তারা বিমানবন্দরের রানওয়ে বাড়ানোর জন্য জমি দেয় তবে বাংলাদেশও বিমান পরিষেবার সুযোগ নিতে পারবে৷
বর্তমানে আগরতলা বিমানবন্দরকে আধুনিকীকরণ করতে আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল ভবনের কাজ চলছে৷ আগামী ২০২০ সালের জানুয়ারি এটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে৷ এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, আগরতলা বিমানবন্দরের সীমানা দেওয়াল থেকে মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া৷ এখন দেখার, বাংলাদেশ ভারত সরকারের প্রস্তাবে রাজি হয় কি না৷



















